আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্কুলের পাঠ্যবই নয়, বাস্তব দুনিয়া থেকেই জীবনের পাঠ। সাধারণত বছর আটেকের পড়ুয়ারা যখন স্কুলের ক্লাসরুমে বসে পাঠ্যবই পড়ে, তখন হায়দরাবাদের লক্ষ্মবীর রাও বাস্তব দুনিয়ায় পা রেখে শিখছে জীবনের পাঠ। চার দেয়ালের চেনা ক্লাসরুম আর বাঁধাধরা রুটিনে আটকে না থেকে, লক্ষ্মবীরের পড়াশোনা চলে দেশের বিভিন্ন বড় বড় কারখানা, স্টার্ট-আপ অফিস আর প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের আড্ডায়।

 

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, লক্ষ্মবীর এই বয়সেই ভারতের সর্বকনিষ্ঠ হার্ডওয়্যার স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা। তবে সে শুধু ব্যবসার স্বার্থে ব্যবসা শুরু করেনি, তার লক্ষ্য প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা বাস্তব সমস্যার সমাধান করা।

 

 

লক্ষ্মবীরের এই অদ্ভুত জীবনযাত্রার নেপথ্যে রয়েছেন তার বাবা ক্যাপ্টেন ভেঙ্কট। তিনি লক্ষ্মবীরকে শুধু মুখের বুলিতে নয়, নিজের চোখে সব দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। বিভিন্ন শহরের বড় বড় কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলাপ করানো থেকে শুরু করে কারখানা ঘুরিয়ে দেখানো—সবকিছুই তিনি করেন ছেলের কৌতূহল বাড়াতে। বাবা-ছেলে মিলে তাঁরা পড়াশোনার এমন এক নতুন পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে মুখস্থবিদ্যার চেয়ে নিজে হাতে কাজ করা বেশি জরুরি।

 

প্রথাগত স্কুলে না গিয়ে লক্ষ্মবীর একটি অনলাইন পড়াশোনার প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত। একে বলা হয় 'মাইক্রো-স্কুলিং'। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো এবং কাজ শেখার অনেক সুযোগ থাকে।

 

নিজের পড়াশোনা নিয়ে আট বছরের লক্ষ্মবীর বলে, "আমাদের এখানে শুধু বিভিন্ন পাঠ্যবিষয় পড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। কোনও একটা জিনিস বোঝানো হয়ে গেলে, আমাদের প্র্যাক্টিক্যাল কাজ দেওয়া হয়। অনুশীলনের জন্য ১০-১৫টা প্রশ্ন দেওয়া হয়। আমাদের ক্লাসে মাত্র ৩-৪ জন ছাত্র থাকে, তাই তাড়াতাড়ি পড়া শেষ হয়ে যায়।" লক্ষ্মবীর এখন একটি কিচেন অটোমেশন রোবট (যা রান্নাঘরের কাজ সহজ করবে) তৈরির প্রজেক্টে কাজ করছে।

 

মুম্বই, পুনে বা বেঙ্গালুরুর মতো বড় বড় শহরের স্টার্ট-আপ মহলে লক্ষ্মবীর বেশ পরিচিত। এই বয়সেই সে বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার এবং কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করে। ফলে খুব ছোট থেকেই প্রযুক্তি, জিনিসপত্র তৈরি এবং নতুন নতুন আবিষ্কারের চিন্তাভাবনা তার মাথায় ঘুরতে থাকে। বড়রা যা অনেক পরে গিয়ে শেখেন, লক্ষ্মবীর তা এখনই বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখে নিচ্ছে।

 

লক্ষ্মবীর রাওয়ের এই কীর্তি, নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য কী? শিক্ষা মানে কি শুধু বইয়ের পড়া মুখস্থ করা, নাকি লক্ষ্মবীরের মতো চারপাশের পরিবেশ থেকে শেখা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান করা?