আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'যা-ই চকচক করে, তা-ই সোনা নয়'। দৈনন্দিন জীবনে আজকাল ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য। পাশাপাশি দেশজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে সাইবার অপরাধের ঘটনা। নিত্যনতুন ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য থেকে আর্থিক সম্বল-সব হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। এজন্য জালিয়াতদের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে আসল ওয়েবসাইটের মতোই হুবহু দেখতে কিছু 'ভুয়ো' ওয়েবসাইট'। এই ক্রমবর্ধমান বিপদ থেকে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় সরকারের 'পিআইবি ফ্যাক্ট চেক' সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও লিঙ্কে ক্লিক করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে ওয়েবসাইটটি আসল কিনা।
সাধারণত ব্যাঙ্ক, সরকারি পোর্টাল বা নামী ই-কমার্স সংস্থার ওয়েবসাইটের নকল তৈরি করে প্রতারকরা। এরপর ইমেল, মেসেজ বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সেখানে নিজের তথ্য দিলেই ঘটে যায় বিপদ।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারকদের ফাঁদ চেনার জন্য একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যে পাঁচটি উপায়ে ভুয়ো ওয়েবসাইট চেনা সম্ভব, সেগুলি হল:
১। ইউআরএল বা ওয়েব অ্যাড্রেসঃ
যে কোনও ওয়েবসাইটে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে তার লিঙ্ক বা ওয়েব অ্যাড্রেসটি ভাল করে দেখে নিতে হবে। আসল ওয়েবসাইটের শুরুতে সাধারণত https:// থাকে এবং বানানে কোনও ভুল থাকে না। নামের বানানে সামান্য ভুল, অতিরিক্ত অক্ষর বা অদ্ভুত কোনও এক্সটেনশন দেখলেই বুঝতে হবে সেটি 'ভুয়ো'।
২। প্যাডলক চিহ্নঃ
ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারের ঠিক বাঁ দিকে একটি বন্ধ তালার মতো চিহ্ন থাকে, তাকে প্যাডলক বলে। ওই চিহ্নই বুঝিয়ে দেয় করে যে কানেকশনটি সুরক্ষিত। কোনও সাইটে যদি ওই চিহ্ন না থাকে বা ব্রাউজার থেকে কোনও সতর্কবার্তা দেখায়, তা হলে তৎক্ষণাৎ বন্ধ করে দিতে হবে।
৩। অতিরিক্ত পপ-আপ বিজ্ঞাপনঃ
যে ওয়েবসাইটগুলিতে ঢোকার পর একের পর এক পপ-আপ অ্যাড, ঝলমলে ব্যানার বা কোথাও ক্লিক করার জন্য বারবার মেসেজ আসে, সেগুলি এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলিতে ক্ষতিকারক ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার লুকিয়ে থাকতে পারে।
৪। কনট্যাক্ট আস এবং অ্যাবাউট আসঃ
কোনও আসল ও নির্ভরযোগ্য সংস্থায় তাদের ফোন নম্বর, ইমেইল আইডি এবং অফিসের ঠিকানা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা থাকে। কোনও ওয়েবসাইটে যদি এই ধরনের যোগাযোগের তথ্য না থাকে বা অসম্পূর্ণ থাকে, তবে ধরে নিতে হবে সেটি 'ভুয়ো'।
৫। অতিরিক্ত লোভনীয় সুযোগঃ
'বিনামূল্যে উপহার', 'নিশ্চিত চাকরি' বা 'কয়েক দিনে লাখপতি' হওয়ার মতো লোভনীয় সুযোগ দেখলেই কোথাও ক্লিক করবেন না। প্রতারকরা মূলত মানুষের প্রলোভন দেখিয়ে বা তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েই তথ্য চুরি করে। এই ধরনের অফার সত্যি কিনা, তা বিশ্বাস করার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটটি ভাল ভাবে যাচাই করে নিতে হবে।















