আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিগত কয়েক বছর ধরে লাগামহীন ভাবে বেড়েছিল বহুতল আবাসন বিক্রির দাম। বিগত কয়েক বছর ধরে যেখানে বাড়ি বিক্রির দাম ক্রমাগত বাড়ছিল। সেখানে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিশেষজ্ঞদের কপালে। দেশের মোট সাতটি শহরে গত তিন মাসে বাড়ি বিক্রি গত বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা কমেছে। এমনটাই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশের দিল্লি-এনসিআর, মুম্বই, কলকাতা ও বেঙ্গালুরু-সহ মূল সাতটি বড় শহরে বাড়ি বিক্রি গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। তবে আবাসন নির্মাতারা এ বিষয়ে আশাবাদী। গত তিন মাসেই তাঁরা বাজারে প্রায় ১.০৬ লক্ষ নতুন বাড়ি বাজারে বিক্রি করেছেন। যা গত বছরের তুলনায় সাত শতাংশ বেশি। ক্রেডাই -সহ আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা একে 'মন্দার বাজার' বলতে রাজি নন। ক্রেডাই-এর প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জি রাম রেড্ডি বলেন, "ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, চড়া দাম এবং কর্মসংস্থানের ট্রেন্ডের কারণে ক্রেতারা এখন কিছুটা ধীর চলো নীতি নিচ্ছেন। তবে দ্রুত নগরায়ণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।"

 

তবে তিনি মনে করেন, "বর্তমান নির্মাণ খরচের কথা মাথায় রেখে 'অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং' বা সাধ্যের মধ্যে বাড়ির সংজ্ঞাটি সরকারের পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।"

 

জানা গিয়েছে, নির্মাতারা এখন সাধারণ বা মাঝারি বাজেটের বাড়ির চেয়ে লাক্সারি এবং আল্ট্রা-লাক্সারি প্রজেক্টের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। বিলাসবহুল বাড়ির বিক্রিতে সামান্য বৃদ্ধিও শতাংশের হিসেবে অনেক বড় দেখায়। যার ফলে আসল চিত্রটি আড়ালে চলে যায়। অথচ ভারতের অধিকাংশ শহর এখনও সাধ্যের মধ্যে থাকা বাড়ির ওপর নির্ভরশীল।

 

মূলত, বড় শহরগুলোতে সম্পত্তির দাম যে হারে বেড়েছে, সাধারণ মানুষের পারিবারিক আয় সেই হারে বাড়েনি। আবাসন নির্মাতারা এখন বেশি মুনাফার আশায় মধ্যবিত্তের নাগালের ফ্ল্যাট ছেড়ে বিলাসবহুল বা লাক্সারি প্রজেক্টের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। চড়া হোম লোনের সুদের হার, নির্মাণ সামগ্রীর বর্ধিত খরচ এবং রেজিস্ট্রেশন ফি-র কারণে বর্তমানে মাসে ১ লক্ষ টাকা উপার্জনকারী পরিবারও বড় শহরগুলোতে নিজের একটা ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন কিংবা শহর থেকে দূরে ছোট ফ্ল্যাট খুঁজছেন।