আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিংশ শতাব্দীর সমাজেও মহিলাদের চলার ক্ষেত্রে বহু বাধা-বিপত্তি রয়ে গেছে। কিন্তু সেই বাধা পেরিয়েও অনেক মহিলাই নিজেদের উদাহরণ হিসেবে স্থাপন করেছেন। তেমনই এক সাহসী নারীর কাহিনি ভাইরাল হয়েছে নেটমাধ্যমে যার মূল চরিত্র আকাঙ্ক্ষা গায়কোয়াড়। ‘হিউম্যানস অফ বম্বে’-এর লিঙ্কডইন পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে আকাঙ্ক্ষার জীবনযাত্রার গল্প মন ছুঁয়ে গিয়েছে হাজার হাজার নেটিজেনের। আকাঙ্খা লিখেছেন, ‘এই পোশাক, খাকি ব্যাগ আর চিঠি দেখতে পাচ্ছেন? আমি একজন পোস্টম্যান! এখনও আমাদের মতো মানুষ আছে! আর হ্যাঁ, আমি একজন মহিলা পোস্টম্যান!’ জানা যায়, অঙ্ক নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর আকাঙ্ক্ষা তিন বছর আগে যোগ দেন ইন্ডিয়া পোস্টে।
যদিও এটা তাঁর শখের পেশা ছিল না। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাবার ইচ্ছেতেই আমি সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করি। আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনও ডেস্ক জব হবে। কিন্তু অফিস থেকে আমাকে জানানো হল ‘তোমার কাজ চিঠি বিলি করা!’ শুনে আমি অবাক’। জানা গিয়েছে, সেই সময় ২৬ জন পোস্ট ডেলিভারি কর্মীর মধ্যে একমাত্র মহিলা ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ঘটনা শুনে প্রথমে তাঁর পরিবারও খুব একটা উৎসাহ দেননি। তাঁদের মনে হয়েছিল, ‘এত বড় শহরে তাঁদের পরিবারের মেয়ে একা একা চিঠি বিলি করবে’? একই কথা মাথায় ঘুরছিল আকাঙ্খারও। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘আমিও চিন্তিত ছিলাম। মনে হয়েছিল এখনও কেউ চিঠি লেখে নাকি?’ কিন্তু ভুল ভেঙে গিয়েছিল প্রথম মাসেই।
আকাঙ্খা জানান, ‘প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিঠি বিলি করতাম। আর এই কাজের মধ্যেই দেখা পেতাম অনেক মিষ্টি মানুষের। একবার এক বৃদ্ধা দরজা খুলে আমায় দেখে বলেছিলেন, ‘মহিলা পোস্টম্যান! আমি তো কখনও ভাবিনি!’ উনি আমায় জল দিলেন, বসে খেতেও বলেছিলেন’। তিন বছরের অভিজ্ঞতায় আকাঙ্ক্ষা বিলি করেছেন এক লক্ষেরও বেশি চিঠি। পোস্টের এক অংশে নিজের অভিজ্ঞতায় তিনি লিখেছেন, ‘একদিন বাড়ি ফেরার সময় পাশের এক ছোট্ট মেয়ে এসে বলল, ‘দিদি, আমি বড় হয়ে তোমার মতো পোস্টওম্যান হতে চাই।’ চোখে জল চলে এসেছিল’। বর্তমানে আকাঙ্ক্ষার বাবা-মাও তাঁর কাজে গর্বিত। আকাঙ্ক্ষার এই যাত্রা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। অনেকেই বলছেন—এ এক অনন্য, সাহসিকতায় ভরা অনুপ্রেরণার গল্প।
