আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডিমের ঝোলকে ঘিরে অশান্তি। রোজ রোজ ডিমের ঝোল খাওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিলেন স্বামী। সেই ঝামেলার জেরেই ঘটল সর্বনাশ। স্বামীর জিভ কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন স্ত্রী। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিমের ঝোল নিয়ে অশান্তি হয়েছিল স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে। সেই ঝামেলা চলাকালীন রাগের মাথায় স্বামীর জিভ কামড়ে ছিঁড়ে নেন স্ত্রী। দাম্পত্য কলহের জেরে চরম পদক্ষেপের অভিযোগে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, বেগুমাবাদের সঞ্জয়পুরী এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ধৃত তরুণীর নাম, ইশা। স্ত্রীর হামলায় ৩২ বছরের বিপীন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে মিরাটের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। পরিবারকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সার্জারি করেও যুবকের জিভ আগের মতো করা যাবে না। 

পরিবার ও পুলিশের তরফে জানা গেছে, গতবছর জুন মাসে ইশা ও বিপীন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মোদিনগরে এক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন যুবক। পরিবারের সঙ্গেই থাকেন। বিয়ের কয়েক মাস পরেই নবদম্পতির মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। তাঁদের মধ্যে কোনও বনিবনা ছিল না। বিয়ের কয়েক মাস পরেই জানা যায়, ইশা নিত্যদিন মদ্যপান ও ধূমপান করেন। বিপীন আপত্তি জানাতেই, বিচ্ছেদের হুমকিও দিতেন ইশা। 

সোমবার রাতে ডিমের ঝোল রান্না করেছিলেন ইশা। রাতে বাড়ি ফিরেই বিপীন জানান, রোজ রোজ ডিমের ঝোল খেতে তাঁর ভাল লাগছে না। যা ঘিরে অশান্তি শুরু হয়। ক্রমেই ইশার মদ্যপান ঘিরে ঝামেলা তুঙ্গে পৌঁছয়। সেই সময়েই রাগের মাথায় বিপীনের জিভ কামড়ে ছিঁড়ে নেন ইশা। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। 

প্রসঙ্গত, গত বছর আগস্ট মাসেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল এই রাজ্যেই। ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছিল, শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছিল ফসনগঞ্জ কাচনা গ্রামে‌। আহত যুবকের নাম আনসার আহমেদ। ৩৮ বছরের যুবকের যৌনাঙ্গে কোপ বসানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী নাজনিন বানোর বিরুদ্ধে। রাগের মাথায় স্বামীর যৌনাঙ্গ কেটে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে নাজনিনের বিরুদ্ধে। 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, আনসার আহমেদের দুই স্ত্রী রয়েছেন। প্রথম স্ত্রী সাবেজুল। দ্বিতীয় স্ত্রী নাজনিন। একটিও সন্তান নেই আনসার আহমেদের। জগদীশপুর থানার পুলিশ আধিকারিক রাঘবেন্দ্র জানিয়েছেন, প্রায়ই দুই স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা হত আনসারের।‌ সংসারের খুঁটিনাটি দিক নিয়েই মূলত ঝামেলার সূত্রপাত। সন্তান না থাকায় কখনও কখনও স্ত্রীদের কথা শোনাতেন আনসার। 

শনিবার রাতেও নাজনিনের সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় আনসারের। তখনই রাগের মাথায় ধারালো ছুরি নিয়ে আনসারের উপর হামলা করেন নাজনিন। হামলার সময় হঠাৎ ছুরি দিয়ে আনসারের যৌনাঙ্গে কোপ বসান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় আনসারকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে রায়বরেলির এইমস-এ ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এই ঘটনার পরেই নাজনিনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। একটি মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। কী কারণে ঝামেলা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তারা।