আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন এপ্রিল মাস দেশের কোটি কোটি রেশন কার্ডধারীর জন্য এক বড় স্বস্তির খবর নিয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে যে, ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র (PMGKAY) আওতায় থাকা সুবিধাভোগীরা ২০২৬ সালের এপ্রিল, মে এবং জুন—এই তিন মাসের বরাদ্দ বিনামূল্যে রেশন একসঙ্গেই পেয়ে যাবেন। খাদ্য ও গণবন্টন দপ্তর ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার থেকে দ্রুত খাদ্যশস্য তুলে উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
কেন এই আগাম বন্টনের সিদ্ধান্ত?
সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, আবহাওয়া দপ্তর থেকে চলতি বছরে তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই প্রচণ্ড গরমে যাতে দরিদ্র মানুষকে বারবার রেশনের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে না হয়, সেই মানবিক দিকটি বিবেচনা করেছে প্রশাসন। দ্বিতীয় কারণটি হলো গুদামের জায়গা কম। বর্তমানে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-এর গুদামগুলোতে মাল রাখার জায়গার চেয়েও বেশি, প্রায় ৮০ মিলিয়ন মেট্রিক টন শস্য মজুত রয়েছে। সামনেই রবি শস্যের নতুন ফলন আসবে, তাই পুরনো শস্য দ্রুত বন্টন করে গুদামে জায়গা তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
রেশন বন্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে গত এক বছরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ডিজিটাল সংস্কার এবং আধার সংযোগের ফলে ২০২৫ সালে দেশজুড়ে প্রায় ৪১.৪১ লক্ষ অযোগ্য রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হরিয়ানা, যেখানে ১৩.৪৩ লক্ষ কার্ড বাতিল হয়েছে। রাজস্থানে ৬০.৫ লক্ষ এবং উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৬ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৯৯ শতাংশ ন্যায্যমূল্যের দোকানেই ‘পয়েন্ট-অফ-সেল’ (ePOS) মেশিন বসানো হয়েছে এবং ৯৮ শতাংশ বিতরণই হচ্ছে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের মাধ্যমে। এতে কারচুপি যেমন কমেছে, তেমনই প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছানো নিশ্চিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে তিন মাসের রেশন হাতে পাওয়া গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। বিশেষ করে বর্ষার আগে দুর্গম এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন হয়ে পড়ার আগেই ঘরে খাবার মজুত থাকবে। সুবিধাভোগীরা তাদের বাড়ির কাছের রেশন দোকানে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একবারে তিনগুণ রেশন সংগ্রহ করার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
