আজকাল ওয়েবডেস্ক: গভীর রাতে দাউদাউ করে জ্বলছে গোটা বাড়ি। ঘুমের মধ্যেই শেষ একের পর এক প্রাণ। পুরোপুরি ঝলসে গেছেন একাধিক বাসিন্দা। যাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। দিল্লিতে ফের ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড। মৃত্যু হল চারজনের।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দিল্লির সঙ্গম বিহার এলাকায়। দমকল সূত্রে জানা গেছে, পাঁচতলা ওই বাড়িটির এক জুতোর দোকান থেকে আগুন ছড়িয়েছে। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডের জেরে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও দু'জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দু'টি দেহ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা গেছে। দুটিই ৩৮ বছরের এক মহিলা ও পুরুষের। বাকি দেহ দু'টি পুরোপুরি অগ্নিদগ্ধ হয়ে গেছে। শনাক্ত করাও যায়নি। গভীর রাতেই ওই বাড়িটির একতলায় আগুন লেগেছে বলে খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তারা দেখে, গোটা বাড়িটিই দাউদাউ করে জ্বলছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ওই পাঁচতলা বাড়ির একতলায় ছিল জুতোর দোকান। সেখানেই প্রথমে আগুন লাগে। ক্রমেই সেই আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দু'জনকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করেছে ফরেন্সিক টিম। কী কারণে অগ্নিকাণ্ডটি ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি।
গত ১৫ নভেম্বর আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। রাতে খাওয়াদাওয়ার পর একসঙ্গেই সকলে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। গভীর রাতেই ঘটল বিপত্তি। আচমকা দাউদাউ আগুন। নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে বাড়িতেই চরম পরিণতি হল একের পর এক সদস্যদের। বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও একাধিক সদস্য।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে মুজাফফরপুরের মতিপুর নগর পরিষদ এলাকায় একটি বাড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে বাড়িতেই কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মতিপুর নগর পরিষদের চেয়ারম্যান কুমার রাঘবেন্দ্র রাঘব জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের জেরে আরও পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁর বর্তমানে শ্রী কৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া দেখেই প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি করে পুলিশ ও দমকলে খবর দেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়েছে তারা। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই বাড়িটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিমেষের মধ্যে গোটা বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
চেয়ারম্যান কুমার রাঘবেন্দ্র রাঘব জানিয়েছেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শনিবার সকাল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়েছে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। ঘিঞ্জি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের জেরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও কসরত করতে হয়েছে। মৃত ও আহতরা সকলেই এক পরিবারের সদস্য। আহতদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।'
