২০১৩ সালের বহুল চর্চিত যৌন নির্যাতন মামলায় শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হলেন তেহেলকার (Tehelka) প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপাল। বিচারবিভাগীয় দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জামসান্দেকারের ডিভিশন বেঞ্চ তেজপালের ২০২১ সালের খালাসের রায় বাতিল করে এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর এজলাসে উপস্থিত ৬২ বছর বয়সী তরুণ তেজপাল লঘুদণ্ডের আর্জি জানিয়ে বলেন, "আমি ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং আমার মনে হয় আমি রাজনীতির শিকার। আমার স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে, দয়া করে আমার প্রতি সহানুভূতিশীল হন।" এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন তেজপাল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে সওয়াল করা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহকর্মীকে হেনস্থার ক্ষেত্রে কড়া বার্তা দিতে সর্বোচ্চ শাস্তির প্রয়োজন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে। গোয়ার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তহলকা আয়োজিত 'থিংকফেস্ট' অনুষ্ঠানের ফাঁকে লিফটের ভেতর এক তরুণী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে গোয়ার একটি ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালত তরুণ তেজপালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। নিম্ন আদালতের সেই রায়ে নির্যাতিতার আচরণ ও চরিত্র নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল বিতর্ক হয়।
গোয়া সরকার ট্রায়াল কোর্টের সেই খালাসের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করে। উচ্চ আদালতে রাজ্য সরকার যুক্তি দেয়, নিম্ন আদালত যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া একজন মহিলার আচরণের প্রচলিত বা কাল্পনিক ধারণার ওপর নির্ভর করে ভুল রায় দিয়েছিল। পাশাপাশি, ঘটনার পর তেজপালের পাঠানো ক্ষমা চাওয়ার ইমেইলগুলিকেও তাঁর অপরাধের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। অবশেষে হাইকোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৬ (২)(f), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি ধারায় তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সাজা শোনায়।
















