আজকাল ওয়েবডেস্ক: নুডলস ও আইস্ক্রিম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ৷ এরপর আচমকা মৃত্যু৷ হরিয়ানার ফরিদাবাদে এক তরুণী গৃহপরিচারিকার রহস্যমৃত্যু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদাবাদের গ্রিন ফিল্ড কলোনির একটি বাড়িতে ২২ বছর বয়সি ওই যুবতীর মৃত্যু ঘিরে তৈরী হয়েছে তীব্র রহস্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা? 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম সোমা খাতুন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে রাকেশ গুজরাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, গভীর রাতে তাঁদের কাছে ফোন আসে যে সোমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ, নুডলস এবং আইসক্রিম খাওয়ার পরেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং মৃত্যু ঘটে।

জানা গিয়েছে, আপাতত বিকে হাসপাতালে সোমার দেহ রাখা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার দুর্গা প্রসাদ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতার মা মনোরবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল না। বাড়ির মালিকের দাবি অনুযায়ী, খাবার খাওয়ার পরেই সোমার মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোতে শুরু করে এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সোমাই ছিলেন পরিবারের সবথেকে ছোট। বর্তমানে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷ 

অন্যদিকে, টিভিতে ছবি ঠিকমতো আসছিল না। ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে বারবার ‘বাফারিং’ হচ্ছিল। আর সেই সামান্য উত্তেজনা থেকেই ঘটে গেল ভয়ঙ্কর এক ঘটনা। মাত্র ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরের হাতে প্রাণ হারালেন তার ষাটোর্ধ্ব পিসি। মহারাষ্ট্রের বসইয়ের এই ঘটনায় হতবাক পুলিশও। 

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে ওই কিশোরের এক বন্ধুকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ষাটের ওই মহিলার নাম দুর্গা বনসোদ। বসইয়ের বাড়িতে ভাইপোর সঙ্গেই থাকতেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। পুলিশের দাবি, বাড়িতে স্মার্ট টিভিতে অনুষ্ঠান দেখা নিয়ে পিসির সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় ভাইপোর। টিভি কেন ঠিকমতো চলছে না, তা নিয়ে মেজাজ হারায় ওই কিশোর। তখনই দুর্গাদেবী তাকে পড়াশোনায় মন দেওয়ার জন্য বকুনি দেন। সেই রাগ সামলাতে না পেরে হাতের কাছে থাকা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় একের পর এক আঘাত করতে শুরু করে ওই নাবালক। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।

ঘটনাটি জানাজানি হয় সোমবার রাতে। দুর্গাদেবীর মেয়ে বারবার মাকে ফোন করেও পাচ্ছিলেন না। আসলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কেউ যাতে যোগাযোগ করতে না পারে, তার জন্য কাকিমার দুটি মোবাইল ফোনই ভেঙে ফেলেছিল অভিযুক্ত ও তার বন্ধু। 

পরে উপায় না পেয়ে মেয়ে তাঁর দাদাকে মায়ের বাড়িতে পাঠালে সত্য সামনে আসে। তিনি এসে দেখেন বাড়ির মূল গেটে তালা লাগানো। জানলা দিয়ে উঁকি দিতেই আঁতকে ওঠেন তিনি। দেখেন মেঝের উপর রক্তে মাখা মায়ের পা পড়ে রয়েছে।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু ভিতর থেকে দরজা এমনভাবে বন্ধ করা ছিল যে, ঘরের ভিতরে ঢোকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বাথরুমের জানলার স্ল্যাব সরিয়ে ঘরের ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। দেখা যায়, একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে দরজার লক জ্যাম করে দেওয়া হয়েছিল। ঘরের ভিতর ‘সোফা-কাম-বেড’-এর নিচে লুকানো ছিল দুর্গাদেবীর নিথর দেহ।

তদন্তকারীদের নজরে প্রথম থেকেই ছিল ওই কিশোর। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “অভিযুক্ত নাবালক ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিল। বারবার মুখ ঢাকছিল এবং যে ঘরে দেহটি লুকানো ছিল, সেই ঘরের দিকেই তাকিয়ে ছিল সে।”

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ওই কিশোর। সে জানায়, দেহ লুকানো ও তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করতে তার এক বন্ধুও তাকে সাহায্য করেছিল। আপাতত দুই নাবালককেই আটক করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷