আজকাল ওয়েবডেস্ক: বার খোলার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কেরলে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বিরোধীদের পাশাপাশি একাধিক খ্রিস্টান সংগঠনও এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে।
রাজ্যের এক্সাইজ দপ্তরের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে বারগুলি সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। আগে সময়সীমা ছিল সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা। অর্থাৎ প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে সময় বাড়ানো হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বিশদ আলোচনার বাইরে এবং শাসক জোট Left Democratic Front-এর ভিতরেও যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, বার মালিকদের সংগঠনের দীর্ঘদিনের আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত। গত পাঁচ বছরে একাধিকবার সময় বাড়ানোর দাবি জানানো হলেও তা খারিজ হয়েছিল। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে আচমকা অনুমোদন মেলায় বিরোধীদের প্রশ্ন—এটি কি নীতিগত সংস্কারের বদলে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা?
রাজ্যের অর্থনীতিতে মদের বিক্রি একটি বড় রাজস্ব উৎস। ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত রাজ্যে ৮৪৭টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার এবং Kerala State Beverages Corporation (বেভকো)-র অধীনে ২৮৯টি খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র ছিল। এক্সাইজ দপ্তরের অনুমান, সময়সীমা বাড়ালে রাজকোষে উল্লেখযোগ্য আয় বৃদ্ধি হতে পারে।
এদিকে ২০২৫–২৬ সালের খসড়া আবগারি নীতিতে পর্যটন অঞ্চলগুলিতে ‘ড্রাই ডে’ শিথিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, থ্রি ষ্টার বা তার চেয়েও বেশি বড় হোটেলগুলিকে বিশেষ অনুমতি ও ফি-র ভিত্তিতে বিবাহ অনুষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় মদ পরিবেশনের ছাড় দেওয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের সময় রাত ৩টা পর্যন্ত বার খোলা রাখার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে Kerala Catholic Bishops' Council (কেসিবিসি)। তাদের টেম্পারেন্স কমিশন একে “মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো নীতিগত পরিবর্তন” বলে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। Malankara Orthodox Syrian Church-ও আদেশ বাতিলের দাবি তুলেছে, তাদের অভিযোগ—পর্যটনের অজুহাতে মদ্যপানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে এবং সরকারকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, অর্থনীতিকে চাঙ্গা, পর্যটন প্রসার এবং রাজস্ব আয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাও বজায় থাকবে বলে সরকারের আশ্বাস।
