আজকাল ওয়েবডেস্ক: দূরের পথ পাড়ি দিতে অনেকেই রাতের ট্রেনে চড়তে ভালবাসেন। ট্রেনে উঠে কিছু সময় কাটানোর পর আরামে ঘুমিয়ে পড়া যায়। কিন্তু সেখান সমস্যা আছে। রাত বাড়তেই ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) এসে আপনার বৈধ টিকিট চাইতে আসেন। আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেও টিকিট দেখাতে আপনি বাধ্য। কিন্তু রেলের নিয়ম বলছে অন্য কথা। রেলের নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে টিটিইরা ঘুমন্ত যাত্রীদের টিকিট দেখানোর জন্য হয়রানি করতে পারবেন না। এই নিয়ম স্লিপার এবং এসি উভয় কোচের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

ভারতীয় রেল দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবহন ব্যবস্থা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী ভারতীয় রেলপথে ভ্রমণ করেন। রাতের বেলায় যাত্রীদের আরামের দিকটি খেয়াল রাখতে রেলও কিছু বিশেষ নিয়ম চালু করেছে। আপনি যদি রাতে ট্রেনে ভ্রমণ করেন, তাহলে আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও অসুবিধা এড়াতে এই নিয়মগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। 

রেলের নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে, টিটিই ঘুমন্ত যাত্রীদের টিকিট দেখানোর জন্য হয়রানি করতে পারবেন না। এই নিয়ম স্লিপার এবং এসি উভয় কোচের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যাতে যাত্রীদের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। তবে, রাত ১০টার পরে ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের টিটিই টিকিট চেক করতে পারেন। যদি কোনও আধিকারিক বারবার কারণ ছাড়াই যাত্রীদের হয়রানি করেন, তাহলে যাত্রীরা হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।

রাতে ট্রেনে নীরবতা বজায় রাখা অপরিহার্য। জোরে কথা বলা, মোবাইল ফোনে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা অথবা হেডফোন ছাড়া গান শোনা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনও যাত্রীর আচরণ অন্য যাত্রীদের বিরক্ত করে তবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। রেলওয়ে আইন ১৯৮৯ এর ১৪৫ ধারায় শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা রয়েছে।

রাত ১০টার পর, ট্রেনের প্রধান আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র রাতের আলো জ্বালানো থাকে, যাতে যাত্রীরা আরামে ঘুমাতে পারেন। উচ্চস্বরে কথা বলাও নিষিদ্ধ। কিছু ট্রেন গভীর রাতে খাবার পরিবেশন বন্ধ করে দেয়। প্রয়োজনে যাত্রীরা ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে আগে থেকে খাবার বুক করতে পারেন। রাতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের চলাচলও সীমিত থাকে। শর্ট সার্কিটের মতো ঘটনা এড়াতে ট্রেনের চার্জিং পয়েন্টগুলিও রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

স্লিপার কোচগুলিতে, মিডল বার্থে থাকা যাত্রীরা রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে তাদের আসন খুলতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে, নিচের বার্থে থাকা যাত্রীরা তাদের তা করতে বাধা দিতে পারবেন না। তবে, সকাল ৬টার পরে, মিডল বার্থ আবার বন্ধ করতে হবে।