আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলম্বোতে রবিবার ভারতের কাছে ৬১ রানে বিধ্বস্ত হার বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে পাকিস্তানকে। ক্রিকেটাররা তো বটেই, দেশজুড়ে সমর্থকরা এই হার মেনে নিতে পারেননি।
বিশ্বকাপ অভিযানে এই হার শুধু যে বড় ধাক্কা দিয়েছে তাইই নয়, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। প্রাক্তন স্পিনার দানিশ কানেরিয়া এই সুযোগে পাকিস্তান দলের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সলমন আলি আঘা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্সকে কটাক্ষ করেন।
বড় ব্যবধানে হারের ফলে সুপার এইটে ওঠার আশা বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তানের। পাশাপাশি দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র হতাশা। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে পাকিস্তানের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে লেখা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাবের দেরা গাজি খান জেলার সব তহসিলে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখানো হচ্ছে।
এর জবাবে কানেরিয়া কটাক্ষ করে বলেন, এতে করে সমর্থকেরা ‘হাই ডেফিনিশনে বাস্তবতা দেখতে পেলেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, ম্যাচ বয়কটের যে হুমকি পাকিস্তান আগে দিয়েছিল, তা কার্যকর করা হলে এই অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত না।
উল্লেখ্য, কলম্বোতে এই হার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, যা বড় মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের ধারাবাহিক ব্যর্থতার চিত্র আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ম্যাচের আগে পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানো সূর্যকুমার যাদব জয় উৎসর্গ করেছেন দেশবাসীর উদ্দেশে। বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচকে হয়তো আর মহারণের পর্যায়ে ফেলা যাবে না।
প্রশংসা করেছেন ঈশান কিষানের মানসিকতার। ম্যাচ শেষে সূর্য বলেন, ‘এই জয় গোটা ভারতের জন্য। ঠিক যেরকম ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম সেরকমই খেলেছি। আমি খুবই খুশি।’
মন্থর পিচেও আগ্রাসী ব্যাটিং কীভাবে করতে হয়, সেটা রবিবার দেখিয়েছেন ঈশান। তরুণ ব্যাটারের সাহস দেখে অবাক সূর্যকুমারও। বলেছেন, ‘ঈশান এভাবেই ব্যাট করে। গত কয়েকটা ম্যাচে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ও এভাবেই ব্যাট করে এসেছে। চাপের সময়ে ও বাকিদের চেয়ে অন্যরকম ভেবেছিল। ওই পরিস্থিতিতে কাউকে দায়িত্ব নিতেই হত। সেই কাজ খুব ভালভাবে পালন করেছে ঈশান। শুধু ওরা নয়, তিলক, শিবম এবং রিঙ্কুও যেভাবে ব্যাট করেছে, তা–ও প্রশংসনীয়।’
স্কোরবোর্ডে ১৭৫ তোলার পরেও কি মনে হয়েছিল কম রান উঠেছিল? মানতে চাননি সূর্য। বলেছেন, ‘প্রথমে ব্যাট করলে বোঝা মুশকিল যে কত রান তুললে সুবিধা হবে। তবে ১৭৫ রান তোলার পর বুঝেছিলাম, এই মাঠে গড়ের থেকে ১৫–২০ রান বেশি তুলে ফেলেছি। স্কোর ১৫৫ হলে ম্যাচটা আরও হাড্ডাহাড্ডি হত।’
পাওয়ার প্লে–তেই পাকিস্তানের চারটি উইকেট ফেলে দিয়ে যেভাবে ভারতকে প্রায় ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছিলেন, তার জন্য বোলারদের প্রশংসা করেছেন সূর্যকুমার।
বলেছেন, ‘নতুন বলে হার্দিক ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেছে। বুমরা আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে কেন ও বিশ্বের সেরা বোলার। সকলের অবদান দেখতে পেয়ে ভাল লেগেছে।’
এদিকে, সোমবারই আহমেদাবাদ পৌঁছবে টিম ইন্ডিয়া। তারপরেই নেদারল্যান্ডস ম্যাচ নিয়ে ভাববেন বলে জানিয়েছেন সূর্য।
