আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্রেফ সন্দেহের বশে ভয়াবহ পরিণতি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু হল এক মানসিক ভারসাম্যহীন প্রৌঢ়ের। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, চাতরা জেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশের দাবি, এটি স্পষ্টতই 'মব লিঞ্চিং' বা গণপিটুনির ঘটনা। গত রবিবার রাতে চাতরার পিপারওয়ার থানা এলাকায় বছর পঁয়তাল্লিশের এক প্রৌঢ়কে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে রাঁচীর রিমস হাসপাতালে ভর্তি করালে সোমবার সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে নিহতের নাম রামবালি রাজওয়ার।
মৃতের ভাই ভুবনেশ্বর রাজওয়ার জানান, তাঁর দাদা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বাড়ি থেকেই কাউকে না বলে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ভুল বুঝে নৃশংসভাবে মারধর করে। পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
অন্যদিকে, বোকারো জেলায় উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ছয় মহিলাকেও ছেলেধরা সন্দেহে আক্রমণ করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ সময়মতো পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। গুজব রুখতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে ওই এলাকাগুলিতে।
প্রসঙ্গত, আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা অন্ধ্রপ্রদেশে। প্রতিবেশী 'দাদার' হাতে ধর্ষণ৷ অন্ধ্রপ্রদেশের মদনপল্লীতে ঘটনাটি ঘটেছে৷ প্রতিবেশী যুবকের হাতে মাত্র সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার অভিযুক্তের বাড়ি থেকেই শিশুটির দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানাজানি হতেই হুলুস্থুল এলাকায়৷
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ওই শিশুটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবার থানায় অভিযোগ জানালে তদন্তে নামে পুলিশ। তল্লাশির সময় অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবকের ঘরে একটি ড্রামের ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
কুর্নুল রেঞ্জ ডিআইজি কে প্রবীণ জানান, "প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে খুন করার আগে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরেই আমরা নিশ্চিত হই যে এই অপরাধ প্রতিবেশী যুবকটিই করেছে।"
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় জনরোষ চরমে ওঠে। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে বিশাল ভিড় জমা হয়। এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা এলাকা পুলিশি মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক মদতপুষ্ট কিছু ব্যক্তি এই উত্তেজনাকে আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এমনকী নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। অশান্তি রুখতে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
