আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্রীষ্ম এগিয়ে আসতেই পাকিস্তানে জলসংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারত রবি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যেতে না দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। Indus Waters Treaty স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর পাঞ্জাব–জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে শাহপুর কান্ডি বাঁধ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা।
মন্ত্রী জানান, বাঁধ চালু হলে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলির জল ব্যবহারে এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিবর্তন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং জল ঘুরিয়ে দেওয়া হবে খরাপ্রবণ কথুয়া ও সাম্বা জেলায়।
রবির উদ্বৃত্ত জল বর্তমানে মাধোপুর হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে। শাহপুর কান্ডি বাঁধ সেই জল পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের দিকে আবার ফিরিয়ে দেবে। প্রকল্পটির ধারণা প্রথম আসে ১৯৭৯ সালে। ১৯৮২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর সরকারের অভ্যন্তরীণ বিরোধে নির্মাণ দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। ২০০৮ সালে একে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়।
প্রায় ৩,৩৯৪.৪৯ কোটি টাকার এই প্রকল্পে পাঞ্জাব দিচ্ছে প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ (২,৬৯৪.০২ কোটি টাকা), বাকি ২০ শতাংশ (৭০০.৪৫ কোটি) কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ। ৫৫.৫ মিটার উচ্চতার বাঁধটিতে ৭.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জলবিদ্যুৎ চ্যানেল রয়েছে। সরকারি হিসেবে, এর ফলে পাঞ্জাবে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু-কাশ্মীরের কথুয়া ও সাম্বা মিলিয়ে ৩২,০০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে সেচের সুবিধা মিলবে। প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তাজ মহিউদ্দিনের মতে, রবির ওপর ভারতের একচ্ছত্র অধিকার থাকায় এই বাঁধ পরিচালনায় সিন্ধু জলচুক্তির বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।
২৩ এপ্রিল ২০২৫-এ পাহালগামে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার একদিন পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সিন্ধু জলচুক্তিকে “স্থগিত” রাখার ঘোষণা করে। ১৯৬০ সাল থেকে কার্যকর এই চুক্তিতে পাকিস্তান পেত সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর জলাধিকার, আর ভারত পেত রবি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর অধিকার। চুক্তি স্থগিতের পর কেন্দ্র সরকার সিন্ধু অববাহিকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে গতি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাওয়ালকোট, রাটলে, বুরসার, পাকাল দুল, কুয়ার, কিরু ও কির্থাই-১ ও ২ প্রকল্প। সম্প্রতি সাওয়ালকোট প্রকল্পেও দ্রুত কাজ এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থা ৮০–৯০ শতাংশই সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলের ওপর নির্ভরশীল। সে দেশের জল সংরক্ষণ ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হতে পারে। ভারতের বক্তব্য, পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলির জলের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সীমান্তবর্তী খরাপ্রবণ এলাকায় সেচ ও বিদ্যুৎ সুবিধা বৃদ্ধি করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। তবে এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
