ভোট পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম “ইঞ্জিনিয়ার”! কে এই ক্লাস ১২ পাশ 'ইঞ্জিনিয়ার'?
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭ : ১৩
শেয়ার করুন
1
10
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন এক শব্দচর্চা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে—“ইঞ্জিনিয়ার”। লক্ষ্য একটাই: তারিক রহমান। বিএনপির বিশাল জয়ের পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এবং তাদের সহযোগী এনসিপি অভিযোগ তোলে যে ফলাফল “ইঞ্জিনিয়ারিং” করে বদলে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগ থেকেই ব্যঙ্গার্থে তারিক রহমানকে “ইঞ্জিনিয়ার” বলা শুরু হয়—আর তা দ্রুত মিম, কৌতুক, এআই-তৈরি ছবি-ভিডিওর মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
2
10
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি ফেসবুকে প্রথম “ইঞ্জিনিয়ার তারিক রহমান” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “অভিনন্দন! ইঞ্জিনিয়ার তারিক রহমান। ১৩তম ব্যাচের ন্যাশনাল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সাফল্যের জন্য অভিনন্দন।” পোস্টটি কয়েক লক্ষ প্রতিক্রিয়া পায়। এরপর থেকেই সমর্থকরা নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে এই উপাধিকে ছড়িয়ে দেন।
3
10
কেউ লেখেন, “লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ”—ইঙ্গিত, দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে থেকে তিনি নাকি দূর থেকেই ফল ‘মাস্টারমাইন্ড’ করেছেন। আবার কেউ বলেন, “শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই যিনি ইঞ্জিনিয়ার হলেন”—যা সরাসরি তার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ।নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তারিক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা “উচ্চ মাধ্যমিক” (এইচএসসি)। এই তথ্য প্রকাশের পর থেকেই ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তকমা আরও ব্যঙ্গাত্মক মাত্রা পায়।
4
10
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও গণনার সময় ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, ৩২টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-১১ আসনে ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘অসঙ্গতি’ ছিল। তার দাবি, গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে এবং কিছু কেন্দ্রের তথ্য ‘ম্যানিপুলেট’ করা হয়েছে।
5
10
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, “জয়-পরাজয় স্বাভাবিক হলে মানুষ মেনে নেয়। কিন্তু বড় ধরনের বৈষম্য বা অনিয়ম থাকলে প্রশ্ন উঠবেই।” সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা অভিযোগ করেন, ফল পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন। এই অভিযোগের ভাষায় বারবার এসেছে একটি শব্দ—“ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”। সেখান থেকেই ‘ইঞ্জিনিয়ার’ উপাধি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
6
10
ফল ঘোষণার দু’দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন করেন, ২০০-র বেশি আসন জিততে কোনও “ইঞ্জিনিয়ারিং” করা হয়েছে কি না। পাশে বসা বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপত্তি জানানোর ভঙ্গি করলেও তারিক রহমান শান্ত গলায় উত্তর দেন, “আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল মানুষকে বোঝানো—আমাদের ভোট দিতে।”
7
10
এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। কুষ্টিয়ার এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, “ইঞ্জিনিয়ার তারিক রহমান এক বিশাল ছক্কা হাঁকালেন!”
এবারের নির্বাচন এমন এক প্রেক্ষাপটে হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর তত্ত্বাবধানে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সমালোচকদের একাংশের দাবি, দেশের বড় একটি রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করেও আন্তর্জাতিক মহলে এটিকে “অন্তর্ভুক্তিমূলক” হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করাই ছিল বড় সাফল্য।
8
10
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক স্বদেশ রায় মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট যাদের, সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বাইরে রেখে নির্বাচন সংগঠিত করেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া—এটাই ছিল বড় সাফল্য।” এই মন্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, নির্বাচন ছিল জনগণের রায়; বিরোধীরা বলছেন, এটি ছিল ‘কৌশল করা ফলাফল’।
9
10
ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে এআই-তৈরি ছবি ছড়িয়েছে—কখনও তারিক রহমানকে সেফটি হেলমেট পরে দেখা যাচ্ছে, কখনও তাকে নির্মাণ কৌশলীর পোশাকে। ক্যাপশন—“দ্য ম্যান, দ্য মিথ, দ্য লেজেন্ড—দ্য ইঞ্জিনিয়ার।” রাজনীতিতে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ নতুন নয়, কিন্তু এই ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তকমা এখন স্পষ্টতই রাজনৈতিক ভাষ্যের অংশ। এটি শুধু কৌতুক নয়, এটি ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রতীকী অস্ত্র।
10
10
জামায়াত-এনসিপি জোট জানিয়েছে, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং ফল পুনর্বিবেচনার দাবি তুলবে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, জনগণের বিপুল সমর্থনই তাদের জয়ের কারণ। এই পরিস্থিতিতে “ইঞ্জিনিয়ার” শব্দটি কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক ডাকনাম নয়—এটি হয়ে উঠেছে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতীক।