দিল্লির সন্নিকটে ফরিদাবাদের একটি হাসপাতাল থেকে ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এছাড়াও একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, কিছু গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক টাইমারও উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, যদি উদ্ধার বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটলে তা ৫০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এর কাছের এক তৃতীয়াংশ এলাকার ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে যাবে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ১২০ মিটারের মধ্যেও কাঠামোর ক্ষতি হতে পারত।

নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে শ্রীনগরে পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আদিল আহমেদ রাহতারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এই বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। 

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কী?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি একটি লবণ যা অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেটের একটি করে আয়ন নিয়ে গঠিত যা অ্যামোনিয়া (NH3) এবং নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) এর বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। রাসায়নিক সংকেত NH4NO3। উচ্চ মাত্রার অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট কার্যকর এবং বহুল ব্যবহৃত সার। এটি লবণাক্ত হওয়ায় সহজেই জলে দ্রবণীয়। যার ফলে এটি সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বের খাদ্য সরবরাহের বেশিরভাগ অংশ এখনও নাইট্রেট সারের উপর নির্ভরশীল। 

কিন্তু এটি একটি অক্সিডাইজারও। যার অর্থ এটি দহনকে সমর্থন করার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণের দু’টি উপায় রয়েছে-

প্রথম, যখন এটি আগুনের সংস্পর্শে আসে অথবা আগুন লাগার সময় এটি কোনও দাহ্য পদার্থের সঙ্গে মিশে যায়। ভয়াবহ সাম্প্রতিক উদাহরণ, ২০২০ সালের আগস্টে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ৩,০০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে আগুন লেগে যায়। এর ফলে তীব্র বিস্ফোরণ হয়। পুড়ে মারা যান ২০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং ৬,০০০ জনেরও বেশি আহত হন। লেবাননের আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন, ছ’বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দরের একটি গুদামে এই পদার্থটি মজুদ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের আগস্টে চীনের তিয়ানজিন বন্দরেও একই রকমের একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ৩৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’টি বিস্ফোরণ ঘটে। দ্বিতীয় বিস্ফোরণে প্রায় ৮০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল। চীনা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭৩ জন নিহত এবং ৮০০ জন আহত হন।

দ্বিতীয়, এটিকে বিস্ফোরক পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে বিস্ফোরণ। এরপর এটি একটি সস্তার বোমায় পরিণত হয় যা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে পারে। এই সংস্করণটিকে ANFO বা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জ্বালানি তেল বলা হয়। এটি নির্মাণ এবং খনির মতো বিভিন্ন শিল্পে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। 

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট প্রায় যে কোনও ধরণের উদ্বায়ী পদার্থের সঙ্গে মিশ্রিত করা যেতে পারে। কিন্তু এর গুণমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশুদ্ধ NH4NO3 রাসায়নিক এবং তাপীয়ভাবে স্থিতিশীল। অর্থাৎ, এর জন্য একটি বাহ্যিক বিস্ফোরণ প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী প্রাথমিক বিস্ফোরণের ফলে আরও বড় এবং স্থিতিশীল বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু, একবার বিস্ফোরণ ঘটানোর পর, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের অগ্নিসংযোগকারী চরিত্রটি স্থান করে নেয়।

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে NH4NO3 নিজেই প্রকৃত বিস্ফোরক নয়। যদি নিরাপদে এবং উচ্চ তাপ থেকে দূরে রাখা হয়, তাহলে এটি জ্বালানো আসলে বেশ কঠিন। তবে ভুল সংরক্ষণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল বেইরুটে।

ভারতে কি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিক্রয় নিয়ন্ত্রিত?

হ্যাঁ। ২০১২ সালে নিয়ম অনুসারে, যা ১৮৮৪ সালের বিস্ফোরক আইনের আওতাধীন এবং ‘ওজন অনুসারে ৪৫ শতাংশের বেশি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সঙ্গে যে কোনও সংমিশ্রণ, যার মধ্যে ইমালশন, সাসপেনশন, গলানো বা জেল (অজৈব নাইট্রেট সহ বা ছাড়া) অন্তর্ভুক্ত, তাকে বিস্ফোরক বলে গণ্য করা হবে’।

এই রাসায়নিক তৈরি এবং পরিচালনা করার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন, এবং এটি কীভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন এবং/অথবা বিক্রি করা হবে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনবহুল এলাকায় এটি সংরক্ষণের উপর বিধিনিষেধ। এবং, অবশ্যই, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের আমদানি ও রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।