আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে ইরান। আর সেই আগুনের আঁচ থেকে বাঁচতে তেহরানের এক হস্টেল ঘরের কোণে সিঁটিয়ে আছে ১৮ বছরের এক তরুণী। শ্রীনগরের বাসিন্দা ওই ছাত্রী কয়েক মাস আগেই এমবিবিএস পড়তে গিয়েছিলেন ইরানে। কিন্তু ইরান, ইজরায়েল সংঘাতের জেরে তাঁর সেই স্বপ্নে কার্যত যবনিকা টেনে দিয়েছে।
২০২৫-এর শেষে পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে বিবাদের জেরে যে সংঘাতের সূত্রপাত, তা এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, জারি হয়েছে কার্ফু। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সোবিয়া খানের মতো প্রায় ১২০০ ভারতীয় পড়ুয়া এখন সেখানে বন্দি।
সোবিয়ার দাদা সংবাদমাধ্যম-কে জানিয়েছেন, "বোনের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। কাল সকালে এক মিনিটের জন্য ফোন করেছিল। ও শুধু কাঁদছিল আর বলছিল, চারদিকে শুধু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। মা-বাবা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা চাই ভারত সরকার দ্রুত ওদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।"
একই হাহাকার শোনা গিয়েছে আরও অনেক পরিবারের কাছে। ২৩ বছরের আফনানের ভাই ফারহান জানিয়েছেন, হস্টেলের বেসমেন্টে প্রাণ হাতে করে পড়ে আছেন তাঁর ভাই। শনিবারের পর আর যোগাযোগ করা যায়নি। উরমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তাহলিল মুজাম্মিলের পরিবারও হাহাকার করছে শেষ একবার তাঁর কণ্ঠস্বর শোনার জন্য।
আরাক ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর এক ছাত্রীর মা আফরোজা জানিয়েছেন, হস্টেলে মজুত থাকা খাবার সোমবারই ফুরিয়ে গিয়েছে। বাইরে বেরোনোর উপায় নেই। এমনকী হস্টেল ওয়ার্ডেন সেখানে আছেন কি না, সেটুকুও জানা যাচ্ছে না। বিমানের টিকিট কাটা থাকলেও এক্সিট ভিসার সমস্যায় আটকে পড়েছেন বহু পড়ুয়া।
আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ইরান নয়, দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার নানা প্রান্তে এখন আটকে রয়েছেন অসংখ্য ভারতীয়। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরানোই এখন বিদেশ মন্ত্রকের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
