ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের মাঝে, শনিবার মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে একাংশের শোক আবার একাংশের উল্লাস। এসবের মাঝেই ইরান এবং ইরানের বাইরেও জোর চর্চা অপর এক বিষয় নিয়ে। চর্চা, খামেনেই শাসনকালে ইরানে নারীদের জীবনযাত্রা নিয়ে।
2
8
ইরানের তরুণী-যুবতী-বৃদ্ধা, কেমনভাবে দিন পেরোয় তাঁদের? খামেনেই জমানা কী কী চাপিয়ে দিয়েছে তাঁদের উপর? দিয়েছে স্বাধীনতা?
3
8
এই প্রসঙ্গের উত্থাপন করতে গেলে, বলতেই হয়, ১৯৭৯ সালেরর কথা। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব ইরানে বিরাট পরিবর্তন এনেছিল, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে।১৯৩০-এর দশকে বোরখা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে, নতুন ইসলামি কর্তৃপক্ষ একটি বাধ্যতামূলক পোশাকবিধি জারি করে যার ফলে সকল নারীকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়েছিল। স্বাভাবিক জীবন যাপনেও বড় বদল আসে। যদিও তার আগে, ইরানে নারীদের জীবন ছিল অনেক বেশি সহজ।
4
8
ইসলামিক বিপ্লবের আগে, ইরানে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ছিল সামগ্রিক আলাদা। সেখানে মেয়েদের মাথায় হিজাব তো ছিলই না, তাঁরা সমুদ্র সৈকত থেকে পিকনিক, নিজেদের পছন্দ মতো পোশাক পরে, যেতে পারতেন যেখানে খুশি। বিশেষ করে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে, ইরানের শহুরে সমাজে মহিলারা তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান ছিলেন।
5
8
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে মহিলা শিক্ষার্থীদের কাজ করা, শহরের রাস্তায় জিন্স, মিনিস্কার্ট কিংবা আধুনিক পোশাকে নারীদের হাঁটাচলা, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শুক্রবারের পিকনিকে পুরুষ-নারীর একসঙ্গে সময় কাটানো, এসব ছিল সেই সময়ের পরিচিত দৃশ্য। যদিও হিজাব তখনও সমাজে প্রচলিত ছিল, তা ছিল মূলত ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়, রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা নয়।
6
8
তাঁরা স্কার্ফ-হিজাব ছাড়াই ঘুরে বেড়াতে পারতেন, যেতে পারতেন সেখানে, যেখানে ইচ্ছে যাওয়ার। ১৯৭৯ সালের পর, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি নির্দেশিকা জারি করেন, সকল নারীকে বোরখা পরতে হবে। ৮ মার্চ - আন্তর্জাতিক নারী দিবসে - হাজার হাজার মহিলা পথে নেমেছিলেন নয়া নির্দেশিকার বিরোধিতায়।
7
8
শুধু পোশাক কিংবা আচরণবিধি নয়, ১৯৭৯-এর পর, ১৯৭৫ সালের পরিবার সুরক্ষা আইন স্থগিত করে দেওয়া হয়, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ৯ করা হয়, মহিলাদের সহজেই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মায়েদের জন্য স্বয়ংক্রিয় সন্তানের হেফাজত বাতিল করা হয়েছিল।
8
8
মহিলাদের পেশার বিষয়েও জারি হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। নারীদের বিচারক হিসেবে কাজ করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু পেশা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তবে, দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট প্রতিরোধও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্কার্ফ কতটা পেছনে সরানো যাবে, মেকআপ কতটা দেখা যাবে, এসব নিয়েই গড়ে ওঠে নীরব প্রতিবাদের ভাষা। সমুদ্র সৈকতে নারীদের পুরো শরীর ঢাকা পোশাকে নামতে হলেও অনেকেই উপায় খুঁজে নেন আলাদা জায়গায় সাঁতার কাটার। ফুটবল ম্যাচে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও মহিলারা দূর থেকে কিংবা বিকল্প উপায়ে খেলা দেখার চেষ্টা চালিয়ে যান।