আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনে ‘শার্টলেস’ বিক্ষোভের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন ভারতীয় যুব কংগ্রেস (IYC) কর্মীকে জামিন মঞ্জুর করল দিল্লির এক আদালত। রোববার জামিনের আবেদন শুনানি চলাকালীন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণির রবি পর্যবেক্ষণ করেন, এই প্রতিবাদ ছিল “প্রতীকী রাজনৈতিক সমালোচনা”—এবং বিচারপূর্ব আটক অব্যাহত থাকলে তা “দণ্ডাদেশের আগেই শাস্তি” হিসেবে গণ্য হতে পারে। যাঁরা জামিন পেয়েছেন তাঁরা হলেন— কৃষ্ণ হরি, নরসিংহ যাদব, কুন্দন কুমার যাদব, অজয় কুমার সিং, জিতেন্দ্র সিং যাদব, রাজা গুর্জর, অজয় কুমার বিমল ওরফে বান্টু, সৌরভ সিং এবং আরবাজ খান।

আদালত তার আদেশে জানায়, সর্বোচ্চ সীমাতেও এই বিক্ষোভকে “একটি জনসমক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতীকী রাজনৈতিক সমালোচনা” হিসেবেই দেখা যায়। বিচারকের কথায়, প্রতিবাদকারীদের হাতে বা গায়ে ছিল নেতৃত্বের ছবি-সহ টি-শার্ট; তাঁরা যে স্লোগান তুলেছিলেন, তা উসকানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক ছিল না বা আঞ্চলিক বিদ্বেষমুক্ত; সমাবেশ ছিল অল্পক্ষনের। আদালত আরও উল্লেখ করে, সম্পত্তি নষ্ট করা বা বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির কোনও প্রমাণ মেলেনি। পুলিশি তত্ত্বাবধানে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবেই তাঁরা অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যায়।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিচারক বলেন, “যদি তদন্তের বিশেষ প্রয়োজন না থাকে এবং অপরিহার্যতা অনুপস্থিত থাকে, তবে বিচার করার আগে  আটক অব্যাহত রাখা দণ্ডাদেশের আগেই শাস্তি আরোপের সামিল হতে পারে।” তিনি এটিকে “ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌল নীতির পরিপন্থী”—বলে মন্তব্য করেন, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতাই মূল নীতি এবং কারাবাস ব্যতিক্রম।

&t=21s

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে জানায়, সংবিধান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিলেও তা শর্তসাপেক্ষ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার উপস্থিতিতে ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিকে ‘সমঝোতা’ বা ‘আপস’ বলে স্লোগান তোলেন এবং বাধা দেওয়া হলে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন, যাতে কয়েকজন আহত হন। পুলিশ জানায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ তাদের এই দাবিকে সমর্থন করে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত এআই সম্মেলনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন সাদা টি-শার্ট পরে বা হাতে নিয়ে, যাতে ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি  এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের  ছবি। টি-শার্টে “ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি”, “এপস্টেইন ফাইলস” এবং “প্রধানমন্ত্রী আপোষ করেছেন” লেখা ছিল।

পুলিশের দাবি, নিরাপত্তারক্ষী ও কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তি হয়। এরপর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। যুব কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রতীকী প্রতিবাদ, যার লক্ষ্য ছিল নীতিগত প্রশ্ন তোলা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারের নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অঙ্গ।

অন্যদিকে শাসকদলীয় মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছিল। এই রায়ে আদালত কার্যত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। এখন তদন্ত কোন পথে এগোয় এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।