আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলের বহুল আলোচিত সিএমআরএল দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলায় বুধবার বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনও রয়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে কেরলে।


ইডির এই অভিযান মূলত কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং এক্সালজিক সলিউশন্স প্রাইভেট লিমিটেডকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ। এক্সালজিক সলিউশন্সের মালিক পিনারাই বিজয়নের মে টি ভিনা। অভিযোগ, কোনও পরিষেবা না দিয়েও তাঁর সংস্থা বিপুল অঙ্কের টাকা পেয়েছিল সিএমআরএল-এর কাছ থেকে।


ইডির আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কেরল হাইকোর্ট মঙ্গলবার এই মামলায় ইডির তদন্ত বাতিল করার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরেই তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বুধবার কোঝিকোড়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক পিএ মাহমুদ রিয়াসের বাড়িতেও হানা দেয় তদন্তকারী সংস্থা। তিনি টি ভিনার স্বামী।


সিএমআরএল একটি কেরল-ভিত্তিক সংস্থা, যা সিন্থেটিক রুটাইল এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংস্থার বিরুদ্ধে ঘুষ, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ উঠছিল। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এক্সালজিক সলিউশন্স প্রায় ১.৭২ কোটি টাকা পেয়েছিল, অথচ তারা কোনও পরিষেবা দেয়নি।


২০২৩ সালের আগস্ট মাসে প্রথম এই অভিযোগ সামনে আসে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেয়। এসএফআইও-র ১৬০ পাতার চার্জশিটে টি ভিনা, সিএমআরএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীধারন কর্তা সহ মোট ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সিএমআরএল, এক্সালজিক সলিউশন্স এবং তাদের সহযোগী সংস্থা এমপাওয়ার ইন্ডিয়া ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টসের নামও রয়েছে।


তদন্তকারী সংস্থার দাবি, টি ভীনার সংস্থা মোট ২.৭০ কোটি টাকা পেয়েছিল সিএমআরএল-এর কাছ থেকে। অন্যদিকে, আয়কর দফতরের অন্তর্বর্তী সেটেলমেন্ট বোর্ডও জানিয়েছিল, সংস্থাটিকে অন্তত ১.৭২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্য উঠে আসে সিএমআরএল কর্মীদের জবানবন্দি থেকে।


২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক টি ভিনার বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০১৩-এর ৪৪৭ ধারায় কর্পোরেট জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে ছয় মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও ধার্য হতে পারে, যা অভিযোগে উল্লিখিত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত হতে পারে।

 


এই ঘটনায় কেরলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে, যদিও শাসক শিবির এখনও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।