আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত 'ই২০' পেট্রল চালুর পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে গাড়িচালকদের মধ্যে। এঁদের মধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, এই জ্বালানিতে গাড়ির মাইলেজ কমছে। ২০২৩ সালের আগে তৈরি গাড়িগুলির ক্ষেত্রে ইঞ্জিন ও রবার পার্টস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ। যদিও সরকারের দাবি, এই জ্বালানিকে পরিবেশবান্ধব এবং দেশের জন্য সাশ্রয়ী।
যাঁরা এই বাজারে 'খাঁটি' পেট্রোলের খোঁজে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে ১০০-অক্টেন জ্বালানি। মূলত, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েলের 'এক্সপি১০০, এইচপিসিএল-এর 'পাওয়ার১০০' এবং বিপিসিএল-এর 'স্পিড১০০ এই জ্বালানি বিক্রি করে।
জ্বালানির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলঃ
১০০-অক্টেন জ্বালানিতে ইথানলের পরিমাণ যৎসামান্য। কোনও ক্ষেত্রে তা প্রায় একেবারে শূন্য, আবার কোনও ক্ষেত্রে খুবই সামান্য পরিমাণ ইথানল থাকে। যেমন-পাওয়ার১০০-এ সর্বোচ্চ ৪.৫ শতাংশ ইথানল পাওয়া যায়। পাশাপাশি, ইথানল বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে নিয়ে তেল নষ্ট করে দেয় বলে অভিযোগ। ১০০-অক্টেন জ্বালানি পাম্পে দীর্ঘক্ষণ জমা থাকে বলে সংশোধনাগারগুলি এটিকে ইথানল-মুক্ত রাখার চেষ্টা করে। মূলত লাক্সারি ও স্পোর্টস কারের ইঞ্জিনের কার্যকারিতা বাড়াতে এই জ্বালানি অনেকটা সাহায্য করে। এ ছাড়া, সাধারণ গাড়ি বা বাইকেও ১০০-অক্টেন পেট্রোল ব্যবহার করা যায়। এতে গাড়ির ইঞ্জিন মসৃণ ভাবে চলে। তবে সাধারণ ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এই জ্বালানির সমস্ত সুবিধা ভোগ করা যায় না।
তবে এই জ্বালানি ব্যবহারের সমস্যাও রয়েছে। কারণ-
১. অগ্নিমূল্য: সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে এই জ্বালানির দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। দিল্লিতে ১০০-অক্টেন লিটার প্রতি জ্বালানির দাম প্রায় ১৬৭ থেকে ১৭০ টাকা।
২. দুষ্প্রাপ্যতা: বড় মেট্রো শহরের কয়েকটি নির্দিষ্ট পাম্প ছাড়া মফস্বল বা অন্যান্য শহরের পাম্পে এই তেল মেলা ভার।
অনেকে মনে করেন, এক্সপি৯৫ বা পাওয়ার৯৯-এর মতো প্রিমিয়াম জ্বালানিতে ইথানল থাকে না। তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অক্টেন রেটিং শুধুমাত্র ইঞ্জিনের কম্পন রোধের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এমন নয়, ইথানল কমাতে সাহায্য করে না। যেমন, ইন্ডিয়ান অয়েলের এক্সপি৯৫ পেট্রোলেও প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ ইথানল মিশে থাকে।
















