আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ। এক ধাক্কায় কমল অর্ডার। সুইগি এবং জোমাটোর সঙ্গে যুক্ত ডেলিভারি কর্মীদের দাবি, তাদের দৈনিক অর্ডার ৩০ থেকে কমে পাঁচে নেমে এসেছে। ফলে তাঁদের জীবিকা ধুঁকির মুখে পড়েছে।  ইরানে যুদ্ধের জেরে এই সংকট বলে জানা গিয়েছে।

গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (GIPSWU) এক বিবৃতিতে বলেছে, "বর্তমান সংকট ক্রমশ বিপর্যয়ে পরিণত হচ্ছে। আমাদের সদস্যরা অনাহারে আছেন।" 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, "মধ্য এশিায় যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত করেছে। ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে রেস্তোরাঁ, ধাবা, ক্লাউড কিচেন, ক্যাটারিং পরিষেবা এবং রাস্তার বিক্রেতারা দোকান বন্ধ করে দিয়েছেনয এর জেরেই জোমাটো এবং সুইগির মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে ৫০-৬০ শতাংশ খাদ্য সরবরাহের অর্ডার নষ্ট হয়েছে।"  

এই পরিস্থিতি গিগ কর্মীদের পরিবারগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে? তার ব্যাখ্যা করে ইউনিয়ন বলেছে, “শত শত মানুষ আমাদের কাছে এসেছে। পরিবারগুলোর রোজগার হঠাৎ কমে গিয়েছে। সেইসব পরিবারের বাচ্চারা ক্ষুধার্ত। দিল্লির একজন গিগ কর্মী, দুই সন্তানের জনক, দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'প্রতিদিন ৩০টি ডেলিভারি থেকে তা কমে হয়েছে ৫-১০টি, প্ল্যাটফর্মগুলি এখন আমার আইডি নিষ্ক্রিয় করার হুমকি দিচ্ছে'।"

শ্রমিক ইউনিয়ন সতর্ক করে দিয়েছে যে, "যুদ্ধ-সৃষ্ট বিপর্যয়" অনেককে বেকার করবে এবং ঋণের দিকে ঠেলে দেবে। অনুমান করা হচ্ছে যে প্রায় এক কোটি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে গিগ কর্মীগের ইউনিয়ন। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, গিগ কর্মীরা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের শক্তির চাপ বহন করছেন এবং অর্ডার কমে যাওযার জন্য ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলিকে শ্রমিকদের শাস্তি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পরিবর্তে, সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং সুরক্ষা দাবি করেছেন।

ইউনিয়নটি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীকে চিঠি লিখে একাধিক দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তেল মন্ত্রকের খাদ্য ব্যবসাগুলিতে ২৪/৭ বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, জোমাটো এবং সুইগির মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১০,০০০ টাকা ত্রাণ, আইডি নিষ্ক্রিয়করণের উপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ, ন্যূনতম দৈনিক প্রণোদনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কোড, ২০২০ এর অধীনে কর্মীদের সম্পূর্ণ কভারেজ।

পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহে ব্যাঘাতের পর রান্নার গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ এবং ক্লাউড কিচেন তাদের মেনু বন্ধ করে দিয়েছে অথবা তাদের খাবারের তালিকা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব কিছু গ্রামীণ এলাকায়ও অনুভূত হয়েছে, যেখানে ঘাটতি তীব্র, গ্যাস সংস্থাগুলি হয় সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে অথবা বুকিংয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবধান আরোপ করেছে।

সরকার রান্নার গ্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করেছে, যা কর্তৃপক্ষকে এর উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দিয়েছে। তবে, সরকার বলেছে যে- আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই, সংকট মোকাবেলার জন্য দেশে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।