আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেনাকাটা বা শপিং করতে ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। একটা কিছু কিনলেই এক লহমায় মন ভাল হয়ে যায়! কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে ঘুরে শপিং করার পর ভারী ব্যাগ বয়ে নিয়ে বেড়ানো কম ঝক্কির নয়! এই সমস্যার সমাধান করতেই দিল্লিতে শুরু হয়েছে এক অভিনব পরিষেবা। টাকা দিলেই আপনার কেনাকাটার ব্যাগ বয়ে নিয়ে আপনার পেছনে পেছনে ঘুরবেন একজন 'শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট'। তবে এই পরিষেবা চালুর পর থেকেই ইন্টারনেটে শুরু হয়েছে তরজা। কেউ কেউ একে দারুণ উদ্যোগ বললেও, অনেকের মতে এটি বর্তমান যুগে দাসত্বের নতুন রূপ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লীতে 'ক্যারিমেন' নামে একটি নতুন স্টার্ট-আপ পরিষেবা চালু হয়েছে। আপাতত দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা লাজপত নগর সেন্ট্রাল মার্কেটে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। লাজপত নগর মার্কেটে এই কোম্পানির একাধিক বুথ বসানো হয়েছে। সেখান থেকেই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহকারী ভাড়া করা যাচ্ছে। মাত্র ৩০ মিনিট ধরে প্যাকেজ বহন করার জন্য একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট পিছু খরচ পড়বে ৭৯ টাকা। তবে যদি বেশি সময় ধরে কেনাকাটা চলে, তবে ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী এই চার্জ খরচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই অ্যাসিস্ট্যান্টরা ক্রেতাদের ব্যাগ বহন করে মেট্রো স্টেশন বা পার্কিং এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবেন।
জানা গিয়েছে, শুধু ব্যাগ বহন করা ছাড়াও একাধিক কাজে সাহায্য করবেন। খাবার দোকানে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে খাবার এনে দিতেও সাহায্য করবেন অ্যাসিস্ট্যান্টরা। ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে, মাস্ক বা ছাতা লাগবে কি না—সব খেয়াল রাখতে পারবেন অ্যাসিস্ট্যান্টরা। এমনকি ক্লান্ত হয়ে পড়লে বসার জন্য ফোল্ডিং চেয়ারও পেতে দেবে। তবে এ ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম, অ্যাসিস্ট্যান্টরা কোনওভাবেই ক্রেতাদের বাচ্চা কোলে নিতে পারবেন না। যদিও বাচ্চার জন্য প্র্যাম বা ক্যারিয়ার ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অ্যাসিস্ট্যান্টদের পরিচয়পত্র যাচাই করে এবং পেশাদারি প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজে নামানো হয়েছে। এই চাকরি করে তাঁরা মাসে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন বলে দাবি স্টার্ট-আপটির।
এই পরিষেবার কথা ঘোষণা হতেই 'এক্স'- সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমালোচনা ও প্রশংসার ঝড় বয়ে গেছে। অনেকে এটিকে কর্মসংস্থানের একটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের দাবি, এটি মানুষকে শোষণের আর এক হাতিয়ার। প্রযুক্তি আর সুবিধার নামে এধরনের মানবিক শ্রমের ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আপাতত তোলপাড় নেটদুনিয়া।















