আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর পশুপালন, দুগ্ধ ও মৎস্য বিভাগ পোল্ট্রি, বন্য পাখি এবং মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়া রোধে জৈব নিরাপত্তা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি পরামর্শ জারি করেছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের কারণে বড় আকারের একাধিক কাকের মৃত্যুর খবর আসার পরেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সুরক্ষা প্রোটোকল অনুসরণ করার জন্যও অনুরোধ করেছেন।
তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনসাধারণকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, যদি কাশি, সর্দি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের জনিত ফ্লু-এর মতো উপসর্গ দেখা দেয়, বিশেষ করে যারা পাখির সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাধারণভাবে বার্ড ফ্লু নামে পরিচিত এই রোগটি এক ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ, যা সাধারণত পাখি এবং অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক বলেছে যে, মানুষ মাঝে মাঝে সংক্রামিত প্রাণী থেকে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে। মানুষের সাধারণত যে ধরনের ফ্লু হয়, তার মতোই বার্ড ফ্লুও আপনাকে গুরুতর অসুস্থ করতে পারে। এটা একজন থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ানো অত্যন্ত বিরল।
বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের খবরের পর ডিম ও মুরগির মাংসের মতো দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমে ভাইরাসটি সংক্রমণের উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সঠিকভাবে রান্না করলে ডিম ও মুরগির মাংস থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই।
বার্ড ফ্লু ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?
বার্ড ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের কারণে হয়, যার মধ্যে H5N1-এর মতো স্ট্রেনগুলো পোল্ট্রির জন্য অত্যন্ত রোগ সৃষ্টিকারী। এটা সংক্রামিত পাখির লালা, শ্লেষ্মা বা মলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়। মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমিত হতে পারে, যেমন খামারের কর্মীরা অসুস্থ পাখির দেখবালের সময়।
বাজারে উপলব্ধ প্রক্রিয়াজাত পোল্ট্রি পণ্যে ভাইরাসটি টিকে থাকতে পারে না। দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো জবাই বা বিক্রয়ের আগে পাখির ঝাঁককে তীক্ষ্ণভাবে পরীক্ষা করেছে এবং সংক্রামিত পাখিগুলোকে আলাদা করে ফেলে। রান্না করা ডিম বা মুরগির মাংস খাওয়ার পর মানুষের সংক্রমণের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
মুরগি থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি
সুস্থ পাখির মাংস থেকে বার্ড ফ্লুর কোনও ঝুঁকি নেই। ভাইরাসটি প্রধানত পাখির শ্বাসযন্ত্র এবং অন্ত্রে থাকে। সংক্রামিত পোল্ট্রিতে যদি কোনও সামান্য পরিমাণও থাকে, তবে মুরগিকে ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রায় রান্না করলে তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মুরগি রান্নার সময় সর্বদা একটি ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করে নিশ্চিত করুন যে এর ভেতরের তাপমাত্রা ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছেছে। এছাড়াও নিশ্চিত করুন যে কোনও কাঁচা অংশ নেই।
ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এড়াতে মাংস ফ্রিজে রাখুন।
ডিম থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি
সংক্রমিত মুরগির ডিমের খোসার উপর বা কখনও ভেতরে ভাইরাস থাকতে পারে। তবে, বাণিজ্যিক ডিম ধোয়া, পরিদর্শন এবং পাস্তুরাইজেশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়, যা দূষণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। কুসুম শক্ত করে রান্না করলে (১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) যেকোনও ভাইরাস মারা যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এই তাপে কোনও জীবিত ভাইরাস টিকে থাকে না।
কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ ডিম, যেমন নরম কুসুম বা ঘরে তৈরি মেয়োনিজ, থেকে সামান্য ঝুঁকি থাকে। পাস্তুরিত তরল ডিম অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ শক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেটিয়ে, সেদ্ধ বা ভাজুন। রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় সানি-সাইড-আপ ডিম এড়িয়ে চলুন।
ডিম ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার কম তাপমাত্রায় দ্রুত ফ্রিজে রাখুন এবং ভাঙা খোসার ডিম ফেলে দিন।
কার্টনজাত ডিমের পণ্য রোগজীবাণু মারার জন্য উত্তপ্ত করা হয় এবং যেকোনো রেসিপির জন্য আদর্শ হতে পারে।
ভোক্তাদের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
নিরাপদ থাকতে এই অভ্যাসগুলো গ্রহণ করুন, বিশেষ করে রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়...
স্বাস্থ্যবিধি: কাঁচা মুরগি/ডিম ধরার পর ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন। গরম সাবান জল দিয়ে পৃষ্ঠতল পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।
ভালোভাবে রান্না করুন: কাঁচা মুরগি বা নরম সেদ্ধ ডিম খাবেন না। এগুলো ভালোভাবে রান্না করলে বার্ড ফ্লু ভাইরাস এবং সাধারণ ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
উৎস: যে পণ্যগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং লেবেলযুক্ত, সেগুলো বেছে নিন এবং স্থানীয় পরামর্শগুলো দেখুন।
কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলুন: যদি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়, তবে নরম ডিম, কাঁচা ময়দার মণ্ড বা অপাস্তুরিত জিনিস এড়িয়ে চলুন।
(এই প্রতিবেদন কোনওভাবেই একজন যোগ্য চিকিৎসকের মতামতের বিকল্প নয়। আরও তথ্যের জন্য সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞ বা আপনার নিজের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।)
