আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র বিক্ষোভে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকালে আদালত নির্দেশ দেয়, "সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যে ধরনের চিকিৎসা সহায়তা বা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, তা-ই করা উচিত। আমরা মনে করি, প্রত্যেক নাগরিকের জীবনই অত্যন্ত মূল্যবান... এবং তা রক্ষার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো উচিত।" বুধবার দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেয়। 

ওই আবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল যে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক যদি অনশন ভঙ্গ না করেন, তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। আবেদনে সরকারের বিরুদ্ধে পরিস্থিতির বিষয়ে "সম্পূর্ণ উদাসীন ও সংবেদনশীলতাহীন" আচরণের অভিযোগ আনা হয়।

ওয়াংচুকের শরীরের ওজন ৮.৫ কেজি কমে যাওয়ার পর দায়ের করা ওই আবেদনে বলা হয়, "সবচেয়ে সহজ উপায় হল তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তরল খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ জোরপূর্বক খাওয়ানো, যা মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।"

আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, যদিও "সর্বজনীন স্থানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন নাগরিকদের একটি মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার", তবুও ওয়াংচুকের মৃত্যু "দেশ ও বিশ্বের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।"

শুনানি চলাকালীন আদালত সরকারের কাছে (যাদের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা) জানতে চায় কেন ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর যথাযথ নজরদারি বা তদারকি করা হচ্ছে না। সরকার জানায় যে প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে, যদিও চিকিৎসকরা সবসময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নন। মেহতা স্বীকার করেন, "...মাঝে মাঝে বেসরকারি চিকিৎসকরাও (পরীক্ষা করছেন)।"

এর জবাবে আদালত বলে, "আমরা চাই এই ব্যক্তিকে সরকারি চিকিৎসকরা নিয়মিত ও প্রতিদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান... এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। আর যদি কোনও ওষুধের প্রয়োজন হয়, তবে দয়া করে ব্যবস্থা নিন। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান!"

আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াংচুক একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অনশনরত একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিকই রয়েছে। তিনি এ-ও জানান যে, সরকারের কাছ থেকে কোনও সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন না। এমনকি প্রবীণ রাজনীতিবিদদের অনুরোধ সত্ত্বেও।" তাঁর আন্দোলনে ওয়াংচুক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।