বিশ্বকাপে মেসি ম্যাজিক! জানেন কোন গোপন মন্ত্রে ২০ বছর ধরে ফিট আর্জেন্টাইন মহাতারকা? জানুন তাঁর ডায়েট, ফিটনেস রুটিন
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৬ জুলাই ২০২৬ ১৪ : ২৩
শেয়ার করুন
1
12
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আরও একবার নিজের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন ৩৯ ফুটবল তারকা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাটকীয় ২-১ জয়ে আর্জেন্তিনাকে ফাইনালে তুললেন অধিনায়ক মেসি। শেষ মুহূর্তে তাঁর জোড়া অ্যাসিস্টেই বদলে গেল আর্জেন্তিনার ভবিষ্যৎ।
2
12
বয়স বাড়লেও মাঠে মেসির গতি, ফিটনেস, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এখনও একই রকম দুর্দান্ত। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য ধরে রাখা সহজ নয়।
3
12
অনেকেই ভাবেন, কীভাবে এত বছর ধরে নিজেকে এতটা ফিট রেখেছেন মেসি? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসে।
4
12
একসময় মেসির খাদ্যাভ্যাস খুব একটা নিয়ন্ত্রিত ছিল না। কিন্তু পরে ইতালীয় পুষ্টিবিদ গিউলিয়ানো পোজারের পরামর্শে তিনি নিজের ডায়েটে বড় পরিবর্তন আনেন।
5
12
মেসি প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, সফট ড্রিঙ্ক এবং জাঙ্ক ফুড প্রায় পুরোপুরি বাদ দেন। কারণ এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং ফিটনেসে প্রভাব ফেলতে পারে।
6
12
বর্তমানে মেসির খাদ্যতালিকায় থাকে প্রচুর টাটকা শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, ওটস ও অন্যান্য সম্পূর্ণ শস্য, বাদাম, অলিভ অয়েল, মাছ এবং চর্বিহীন মাংস। এগুলো শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন এবং ভাল ফ্যাট সরবরাহ করে। ফলে শরীরে শক্তি বজায় থাকে এবং পেশিও সুস্থ থাকে।
7
12
মেসি পর্যাপ্ত জল পান করার বিষয়েও খুব গুরুত্ব দেন। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, পেশিতে টান এবং পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে। তাই অনুশীলন ও ম্যাচের আগে-পরে তিনি নিয়ম মেনে জল ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট খান।
8
12
শুধু খাবার নয়, তাঁর ব্যায়ামের ধরনও বেশ আলাদা। অনেকেই মনে করেন বেশি ওজন তুললেই শরীর শক্তিশালী হয়। কিন্তু মেসি ভারী জিম করার চেয়ে শরীরের ভারসাম্য, নমনীয়তা এবং দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দেন।
9
12
মেসির ট্রেনিংয়ে থাকে স্প্রিন্ট, কোর স্ট্রেন্থের ব্যায়াম, ব্যালান্স এক্সারসাইজ, স্ট্রেচিং এবং বল নিয়ন্ত্রণের বিশেষ অনুশীলন। এগুলো তাঁকে মাঠে দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে এবং দীর্ঘ সময় ক্লান্ত না হয়ে খেলতে সাহায্য করে।
10
12
মেসি পর্যাপ্ত ঘুমকেও ফিটনেসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন। ভাল ঘুম শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত পেশি মেরামত করতে সাহায্য করে এবং পরের দিনের জন্য নতুন শক্তি জোগায়। পাশাপাশি ম্যাচ বা কঠিন অনুশীলনের পরে তিনি রিকভারি সেশন, স্ট্রেচিং এবং ফিজিওথেরাপির সাহায্য নেন। এতে চোটের ঝুঁকি কমে এবং শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
11
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির সাফল্যের পিছনে কোনও ম্যাজিক নেই। প্রতিদিন নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার অভ্যাসই তাঁকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে ধরে রেখেছে।
12
12
মেসির ডায়েট ও ব্যায়াম তাঁর শরীর এবং পেশাদার খেলোয়াড়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি। তাই সাধারণ মানুষের কোনও তারকার ডায়েট হুবহু অনুসরণ না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের জন্য উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা করা উচিত।