বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির ভয়াবহতা অনেকটাই কমে এলেও মাঝেমধ্যে নতুন ভ্যারিয়েন্ট এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির খবর সামনে আসে। সেই আবহেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বুলগেরিয়ার প্রখ্যাত ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা।
2
10
সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, তিনি নাকি বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে করোনা বা করোনা-সদৃশ মহামারি ভবিষ্যতে আবারও ফিরে আসতে পারে। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
3
10
বাবা ভাঙ্গা, যাঁর আসল নাম ভ্যাঙ্গেলিয়া পানদেভা গুশতেরোভা, তাঁর নামে বহু ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত রয়েছে। সমর্থকদের দাবি, তিনি নাকি ৯/১১ হামলা, সুনামি কিংবা কোভিড-১৯-এর মতো একাধিক বড় ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
4
10
যদিও এসব দাবির অধিকাংশেরই কোনও নির্ভরযোগ্য লিখিত বা প্রামাণ্য উৎস পাওয়া যায় না। তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে নানা ভবিষ্যদ্বাণী তাঁর নামে ছড়িয়ে পড়েছে, যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
5
10
সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাবা ভাঙ্গা নাকি ভবিষ্যতে আবার একটি বড় সংক্রামক রোগ বা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন।
6
10
এই দাবি ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, কোনও মহামারি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের একমাত্র উৎস হল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থাগুলির প্রকাশিত তথ্য।
7
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ ভাইরাস এখনও পুরোপুরি পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়নি। বিভিন্ন দেশে সময়ে সময়ে নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা যেতে পারে।
8
10
তবে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষের শরীরে টিকা এবং প্রাকৃতিক সংক্রমণের ফলে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে অতীতের মতো ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
9
10
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অযাচাইকৃত ভবিষ্যদ্বাণী বা গুজবের উপর নির্ভর না করে সরকারি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে বুস্টার ডোজ নেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, হাত পরিষ্কার রাখা এবং শ্বাসকষ্ট বা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
10
10
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকতেই পারে, কিন্তু এগুলিকে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করার কোনও ভিত্তি নেই। করোনা বা অন্য কোনও সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশিকাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।