আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল শহরে এক অন্তঃসত্ত্বা এবং তাঁর দুই নাবালিকা কন্যার মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যকর। মর্মান্তিক এই মৃত্যু প্রথমে নিছক দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়েছিল। তবে সময় এগোতেই এই তিন জনের মৃত্যুর নেপথ্যে ভয়াবহ কারণ জানা যায়। পুলিশ জানিয়েছে যে, মৃতার স্বামীই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন।

মৃত্যু হয়েছে, ২৬ বছর বয়সী ফারহাত এবং তাঁর দুই কন্যা - ৮ বছর বয়সী উমেরা ও ৬ বছর বয়সী আয়েশার। এই পরিবার, ওয়ারাঙ্গল-খাম্মাম জাতীয় মহাসড়কের কাছে একটি সুইমিং পুল ভাড়া দিত। যা ছিল তাদের আয়ের প্রধান উৎস।

জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে ফারহাত এবং তাঁর দুই কন্যা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পুলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁদের জলে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাঁদের ওয়ারাঙ্গলের এমজিএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ফারহাতের স্বামী আজহারউদ্দিন শুরুতে পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, ওই তিনজন পা পিছলে জলে পড়ে ডুবে গিয়েছিলেন।

তবে, তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়। স্পষ্ট হতে থাকে যে, আজহারউদ্দিনই তাঁর স্ত্রী ও মেয়েদের জোর করে পুলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ফারহাত অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তৃতীয় সন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। এই দপ্পতি জানতে পেরেছিলেন যে, গর্ভস্থ ওই সন্তান কন্যা। এরপরই আজারউদ্দিন মেজাজ হারান। অভিযোগ যে, আজহারউদ্দিন একটি পুত্রসন্তান চেয়েছিলেন এবং ফারহাতকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ফারহাত তাতে রাজি হননি।

তদন্তকারীদের ধারণা, এই পারিবারিক বিবাদই হয়তো এই অপরাধের নেপথ্যের মূল কারণ।

তদন্ত চলাকালীন পুলিশ আজহারউদ্দিনের মোবাইল ফোনের অবস্থান ট্র্যাক করে এবং নিশ্চিত হয় যে, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ আরও জানতে পারে যে, পুলের চত্বরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ঘটনার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর আজহারউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। যাতেই পুলিশের সন্দেহ আরও গভীর হয়। শেষমেশ পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত অজাহারউদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

ফারহাতের বাবা আলি এর আগেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর মেয়ে এবং জামাইয়ের মধ্যে ঘনঘন ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছিল। যার মূল কারণ ছিল ফারহাতের গর্ভস্থ সন্তান। তিনি তদন্তকারীদের বললেন, “আমার মেয়েটি অনেক দিন ধরেই চাপের মধ্যে ছিল। আমরা বিশ্বাস করি না যে এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা।”