আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় দু'সপ্তাহে এই নিয়ে চতুর্থবার, দাম বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের। এবার লিটার প্রতি পেট্রল, ডিজেলের দাম বেড়েছে আড়াই টাকারও বেশি টাকা করে। সোমবার পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে ২.৬১ টাকা। ডিজেলের বেড়েছে ২.৭১ টাকা করে। গত ১১ দিনে জ্বালানির দাম লিটারে বেড়েছে ৭.৫ টাকা।
বর্তমানে কোন শহরে পেট্রলের কত দাম:
দিল্লি- ১০২.১২ টাকা (বেড়েছে- ২.৬১ টাকা)
কলকাতা- ১১৩.৫১ টাক (বেড়েছে- ২.৮৭ টাকা)
মুম্বই- ১১১.২১ টাকা (বেড়েছে- ২.৭২ টাকা)
চেন্নাই- ১০৭.৭৭ টাকা (বেড়েছে- ২.৪৬ টাকা)
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে নিত্যপ্রযোজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে। ফলে টান পড়ছে আম-আদমির পকেটে। ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহনের (লজিস্টিকস) খরচ বাড়বে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ওপর। জ্বালানির দাম আগে বাড়ার কারণে দুধ ও পাউরুটির মতো পণ্যগুলো ইতিমধ্যেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। কাকতালীয়ভাবে, জ্বালানির এই সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধি এমন এক দিনে ঘটল, যেদিন ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়ে এই মাসে প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বর্তমানে কোন শহরে ডিজেলের কত দাম:
দিল্লি- ৯৫.২০ টাকা (দাম বেড়েছে- ২.৭১ টাকা)
কলকাতা- ৯৯.৮২ টাকা (দাম বেড়েছে- ২.৮০ টাকা)
মুম্বই- ৯৭.৮৩ টাকা (দাম বেড়েছে- ২.৮১ টাকা)
চেন্নাই- ৯৯.৫৫ টাকা (দাম বেড়েছে- ২.৫৭ টাকা)
জ্বালানির দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল গত শনিবার (২৩ মে)। সেদিন পেট্রলের দাম ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এছাড়া শনিবার দিল্লিতে প্রতি কেজি সিএনজি-র দাম ১ টাকা বাড়িয়ে ৮১.০৯ টাকা করা হয়েছিল।
জ্বালানির দাম আবারও কেন বাড়ান হল?
চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। তেলবাহী জাহাজ চলাচলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে, ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলো চড়া দামে অপরিশোধিত তেল কিনলেও সাধারণ পেট্রল ও ডিজেল আগের দামেই বিক্রি করে যাচ্ছিল।
তবে, ইরান যুদ্ধের (যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল) দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, তেল বিপণন সংস্থাগুলোর লোকসানের বোঝা আর বহনযোগ্য রইল না। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, তিনটি প্রধান তেল বিপণন সংস্থা- ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান গুনছিল। এই অবস্থায়, সরকার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর এর প্রভাব প্রসঙ্গে 'গ্রান্ট থর্নটন ভারত'-এর 'অয়েল অ্যান্ড গ্যাস' বিভাগের অংশীদার সৌরভ মিত্র বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে পরপর কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধি তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, তা তাদের লোকসানের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে এলেও, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে থাকা ঝুঁকিগুলো পুরোপুরি প্রশমিত হতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়াই থাকবে। সম্ভবত প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারের উপরে। টাকার (রুপি) মান কমে যাওয়ার বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর মুনাফার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে এবং তারা এখনও 'আন্ডার-রিকভারি' বা লোকসানের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ভবিষ্যতে, জ্বালানির দামে সুচিন্তিত ও পরিমিত কিছু সংশোধন বা রদবদল করার প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারকে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার বিষয়টি এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব- এই দু'য়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।"
উল্লেখ্য, ভারতে জ্বালানির দাম ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে অপরিবর্তীত ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা কমানও হয়েছিল। সুতরাং, দীর্ঘ চার বছরের ব্যবধানের পর জ্বালানির দামে এই সাম্প্রতিক বৃদ্ধি ঘটল।















