আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি পুলিশের হাতে পিরাগড়ি উড়ালপুলের রহস্যমৃত্যুর কিনারা। তিনজনকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের এক তান্ত্রিককে। অভিযুক্তের নাম কামরুদ্দিন ওরফে 'বাবা'। পুলিশের দাবি, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা হাতিয়ে নিতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ওই স্বঘোষিত তান্ত্রিক।
জানা গিয়েছে, গত সোমবার দিল্লির পিরাগড়ি উড়ালপুলের ওপর একটি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদের নাম রণধীর (৭৬), শিব নরেশ (৪২) এবং লক্ষ্মী (৪০)। প্রাথমিক অবস্থায় দেহে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন না থাকায় বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সন্দেহ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে পুলিশ।
ডিসিপি (সচিন শর্মা) জানান, কামরুদ্দিন ওই তিনজনকে তান্ত্রিক ক্রিয়ার মাধ্যমে রাতারাতি বড়লোক করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। এই ফাঁদে পা দিয়েই তাঁরা নিজেদের সঙ্গে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে তান্ত্রিকের সঙ্গে দেখা করতে যান। জেরায় কামরুদ্দিন কবুল করেছে যে, সে নিজেই বিষ মেশানো লাড্ডু তৈরি করে এনেছিল। গাড়ির ভেতর মদ্যপানের আসর চলাকালীন কৌশলে ওই তিনজনকে বিষাক্ত লাড্ডু খাইয়ে দেয় সে। তাঁরা অচেতন হয়ে পড়লে নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় তান্ত্রিক।
পুলিশি তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কামরুদ্দিন একজন পেশাদার অপরাধী। এর আগেও সে একাধিক বড় অপরাধে জড়িত ছিল। প্রযুক্তিগত তথ্য ও মোবাইল টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, ঘটনার সময় কামরুদ্দিন ওই গাড়িতেই উপস্থিত ছিল। শেষমেশ মিথ্যে কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও জেরার মুখে ভেঙে পড়ে সে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, দেশে ফিরেই বিপত্তি৷ সুরাটে একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার লালগেট এলাকার হরিপুরা এলাকায় নিজেদের ঘর থেকেই উদ্ধার হয় দম্পতি ও তাঁদের ১২ বছরের ছেলের দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘরের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস নিশ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকে যাওয়ার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মৃতরা হলেন ফয়েজ আহমেদ (৪০), তাঁর স্ত্রী মুবিনা (৩৬) এবং তাঁদের নাবালক সন্তান নোমান। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সৌদি আরব থেকে উমরাহ সেরে ফিরেছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকালে দেহগুলি উদ্ধারের পর প্রথমে আত্মহত্যার কথা ভাবা হলেও, পুলিশি তদন্তে উঠে আসে অন্য এক কথা।
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ রাঘব জৈন জানান, ঘরের দরজা খোলার পরেই তীব্র গ্যাসের গন্ধে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয় তদন্তকারীদের। দেহগুলি পড়ে ছিল বসবার ঘরে। প্রত্যেকের মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরোচ্ছিল। ওই ঘরে এসি যেমন ছিল, তেমনই ছিল গ্যাসের সংযোগও। পুলিশের সন্দেহ, কোনওভাবে গ্যাস লিক করে ঘরময় বিষাক্ত গ্যাসে ছেয়ে যায়।
পুলিশ কর্তার কথায়, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে গ্যাস লিকের কারণেই এই মৃত্যু। বিষ খেয়ে আত্মহত্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না, তবে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে একে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।” বাড়ির অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
