আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাতপাক ঘুরে কনেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বর। কিন্তু মাঝরাস্তায় সেই আনন্দ বদলে গেল আতঙ্কে। ওড়িশার বোলাঙ্গির জেলায় খোদ বরের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, বোলাঙ্গিরের বাসিন্দা হরিণবন্ধু প্যাটেল কান্তামালে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। রবিবার ভোরে অনুষ্ঠান সেরে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। গাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন। অভিযোগ, বড়াবান্ধার কাছে একটি নির্জন রাস্তায় আচমকাই তিনটি যুবক তাঁদের গাড়ি আটকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সরাসরি বরকে হুমকি দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে দেখে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি উপস্থিত কেউই। মুহূর্তের মধ্যে কনেকে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। অসহায় অবস্থায় মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন পরিজনরা।

এরপরই তরভা থানায় গিয়ে ঘটনার বিবরণ দেন হরিণবন্ধু। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি তদন্তে নেমেছে পুলিশ। থানার আইআইসি অনিতা কিড়ো জানিয়েছেন, "তিন জন মিলে বন্দুক দেখিয়ে তরুণীকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। ওই যুবতীর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।" সাতসকালে ভরা রাস্তায় এমন ফিল্মি কায়দায় কনে অপহরণের ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে, ডেটিং অ্যাপে আলাপ, তার পর লিভ-ইন। কিন্তু সেই প্রেমের পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ত্রিপুরার তরুণী। গুরুগ্রামে পড়তে এসে দিল্লির যুবকের হাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হলেন ১৯ বছরের এক ছাত্রী। অভিযুক্ত শিবমকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে ওই তরুণীর।

পুলিশ সূত্রে খবর, ত্রিপুরার ওই তরুণী গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়তে এসেছিলেন। সেক্টর ৬৯-এর একটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) আবাসে থাকতেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দিল্লির নরেলার বাসিন্দা শিবমের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। পরিচয়ের কিছু দিনের মধ্যেই তাঁরা লিভ-ইন শুরু করেন। বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের।

কিন্তু অভিযোগ, কিছু দিন যেতেই শিবম ওই তরুণীকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। আর তার পরেই শুরু হয় অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেই নৃশংসতা চরমে ওঠে। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, বচসা চলাকালীন স্টিলের বোতল ও মাটির পাত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এমনকী দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর গোপনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন শিবম।

এখানেই শেষ নয়, ছুরি দিয়ে ওই ছাত্রীর পা চিরে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। শিবম হুমকি দিয়েছিলেন যে, মারের চোটে তরুণী আর কোনও দিন হাঁটতে পারবেন না বা মা হতে পারবেন না। এমনকী মুখ বন্ধ রাখতে তাঁর নগ্ন ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেলও করা হত বলে দাবি নির্যাতিতার।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শিবমের নজর এড়িয়ে তাঁর ফোন থেকেই নিজের মাকে ফোন করেন ওই তরুণী। শিবম বাংলা বোঝেন না, সেই সুযোগ নিয়ে নিজের মাতৃভাষাতেই মা-কে সমস্ত কথা জানান তিনি। ফোনে তরুণী বলেন, "আমাকে যদি জীবিত দেখতে চাও, তবে এসে খুঁজে বের করো।" মেয়ের কথা শুনেই পুলিশে খবর দেন তাঁর মা, যিনি নিজেও এক জন পুলিশকর্মী। এর পরই গুরুগ্রাম পুলিশ ওই পিজি থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং শিবমকে পাকড়াও করে।