আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দিল্লি। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দু’টি অতিরিক্ত জেলা এবং ছ’টি নতুন মহকুমা তৈরির প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তির পরে, রাজধানীর মোট রাজস্ব জেলা ১১ থেকে বেড়ে ১৩টি হবে এবং বর্তমান ৩৩টি মহকুমা থেকে বেড়ে ৩৯টি মহকুমা হবে।
বর্তমানে, দিল্লির প্রশাসনিক ব্যবস্থা খণ্ডিত: ১১টি রাজস্ব জেলা, প্রতিটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে, পৃথক অফিস থেকে পরিচালিত হয়। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) ১২টি অঞ্চলে বিভক্ত। সেগুলির পরিচালনা করেন ডেপুটি কমিশনাররা। কেন্দ্রে অবস্থিত এনডিএমসি এলাকা (লুটিয়েন্স জোন) নয়াদিল্লি জেলার মধ্যে একটি পৃথক সত্তা।
আরও পড়ুন: বিদায় মিগ-২১: ছয় দশকের সাহস, ত্যাগ আর গৌরবের কাহিনি
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিভক্ত ব্যবস্থা প্রায়শই সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ এবং এক্তিয়ারগত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, এমসিডির নাজাফগড় জোনের কিছু অংশ নয়াদিল্লি জেলার সঙ্গে ওভারল্যাপ করে। অন্যদিকে, এমসিডির কারোলবাগ জোনের কিছু অংশ ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকা সত্ত্বেও উত্তর-পশ্চিম জেলায় বিস্তৃত। নাজাফগড়ের কিছু অংশে বসবাসকারী একজন ব্যক্তি মনে করেন যে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব জেলা পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিমে হতে পারে। তবে, নাজাফগড় এমসিডি জোনের কিছু অংশ নয়াদিল্লি জেলার আওতাধীন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্য বিভাগগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা, এক্তিয়ারের সমস্যা অপসারণ করা এবং নাগরিকদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার এমসিডি অঞ্চলগুলিকে রাজস্ব জেলাগুলির সঙ্গে সারিবদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে এনডিএমসি এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকাগুলিকে নয়াদিল্লি জেলার সঙ্গে মিলিত করার পরিকল্পনা করছে।
নতুন জেলাগুলির সর্বশেষ সৃষ্টি হয়েছিল ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি এবং শাহদারা গঠিত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, আসন্ন পুনর্গঠন আরও ভাল প্রশাসন, উন্নত সমন্বয়, দ্রুত পরিষেবা সরবরাহ এবং কাজের বন্টনে আরও সুবিধা হবে।

আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুনর্গঠনের জন্য দিল্লির প্রশাসনিক মানচিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য সংস্কার প্রয়োজন। যার মধ্যে জেলা এবং মহকুমা সীমানা সমন্বয়, নির্দিষ্ট গ্রাম এবং এলাকা যুক্ত করা বা অপসারণ করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নতুন জেলা এবং মহকুমাগুলির নামগুলি তাদের অন্তর্ভুক্ত এলাকা বা এমসিডি জোনগুলিকে প্রতিফলিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার পরে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
আধিকারিকদের মতে, ১২টি এমসিডি জোন- সেন্ট্রাল, সিটি সদর-পাহাড়গঞ্জ, সিভিল লাইনস, করোল বাগ, কেশবপুরম, নাজফগড়, নরেলা, রোহিণী, শাহদারা উত্তর, শাহদারা দক্ষিণ, দক্ষিণ এবং পশ্চিমকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায়, শাহদারা জেলায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি এবং বাইরের দিল্লির (উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম সহ) সীমানাও সংশোধন করা হতে পারে।
এমসিডি জোনগুলি বর্তমানে একাধিক রাজস্ব জেলা জুড়ে বিস্তৃত, যা প্রশাসনিক কাজে জটিলতার সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, কেন্দ্রীয় জোনে চারটি জেলা রয়েছে- মধ্য, নয়াদিল্লি, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব। দক্ষিণ জোন নয়াদিল্লি, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম জুড়ে বিস্তৃত। রোহিণী জোনটি উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম জেলাগুলির সঙ্গে ওভারল্যাপ করে।
নতুন জেলা গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজস্ব বিভাগ এই উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি শুরু করেছে। প্রস্তাবটিতে এই পদক্ষেপের যুক্তি এবং প্রত্যাশিত সুবিধার রূপরেখা থাকবে। প্রস্তাবটি সম্পর্কে প্রথমে অর্থ ও আইন বিভাগের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হবে এবং তারপর মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর, এটি চূড়ান্ত সম্মতির জন্য লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কাছে পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদিত হলে, একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। যা বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে, যার মধ্যে নতুন ডিএম, এসডিএম এবং প্রাসঙ্গিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ, সেই সঙ্গে জেলা অফিস স্থাপনের বিষয়ও থাকবে।
















