আজকাল ওয়েবডেস্ক: অফিসের দেওয়া কাজ ডেডলাইনের মধ্যে শেষ করতে পারেননি কর্মী। তা নিয়ে অফিসের তরফ থেকে ফিডব্যাকও দেওয়া হয়েছিল। এরপরেই ওই কর্মী যা করেছেন তাতে হতবাক সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা। ঘটনাটি দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থায়। সংস্থার রণিত ঠাকুর তাঁর অফিসের একটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরেন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে জানান, তাঁর সংস্থার এক কর্মী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায়, তাকে সেই বিষয়ে গঠনমূলক ফিডব্যাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ফিডব্যাক নেওয়ার পরিবর্তে কর্মী তাঁর ব্যাক্তিগত সমস্যার কারণে দুই দিনের মধ্যে কর্মস্থলে আসা বন্ধ করে দেন। রোহিত আরও জানান, তিনি ওই কর্মীর সঙ্গে কথা বলে তাঁকে কাজের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বোঝান। রোহিত আরও জানান, তিনি ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সে বিশ্বাস করেন। কিন্তু জরুরি সময়ে কর্মীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
প্রতিষ্ঠাতার দাবি, ওই কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তখনও পর্যন্ত বিষয়টি ঠিকঠাক ছিল। একটি ডেডলাইন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে পরিস্থিতি ঘুরে যায়। অফিস সময়ের মধ্যেই লাইভ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় কর্মীটি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ফিডব্যাক পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং সেখানে উল্লেখ করেন এই কাজের ধরণের সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না। ফিডব্যাক দেওয়ার বিষয়টি ওই কর্মী ভালভাবে নেননি এবং অপমানিত বোধ করেন। যোগদানের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় তিনি চাকরি ছেড়ে দেন ।
রণিতের মতে, কাজ শেখানো সম্ভব, কিন্তু মানুষের মনোভাব পরিবর্তন করা কঠিন। বিষয়টি শুধুমাত্র কাজের ভুল নিয়ে ছিল না, বরং কর্মীর মনোভাব এখানে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর মতে, পেশাগত জীবনে ভুল হতেই পারে কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং উন্নতির চেষ্টা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে ফিডব্যাক গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। সমালোচনাকে ইতিবাচক ভাবে নিয়ে নিজের কাজের উন্নতি করার বদলে হঠাৎ করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া পেশাদারিত্বের পরিচয় নয়।”
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলছেন কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। আবার অনেকেই কর্মীর পক্ষ নিয়ে বলছেন কর্মক্ষেত্রে কী ধরণের ফিডব্যাক দেওয়া হয়েছে বা তা কতটা সহানুভূতিশীল ছিল, সেটাও গুরত্বপূর্ণ বিষয় এবং কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণেই হয়তো কর্মী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
