আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডেটিং অ্যাপে আলাপ, তার পর লিভ-ইন। কিন্তু সেই প্রেমের পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ত্রিপুরার তরুণী। গুরুগ্রামে পড়তে এসে দিল্লির যুবকের হাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হলেন ১৯ বছরের এক ছাত্রী। অভিযুক্ত শিবমকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে ওই তরুণীর।
পুলিশ সূত্রে খবর, ত্রিপুরার ওই তরুণী গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়তে এসেছিলেন। সেক্টর ৬৯-এর একটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) আবাসে থাকতেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দিল্লির নরেলার বাসিন্দা শিবমের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। পরিচয়ের কিছু দিনের মধ্যেই তাঁরা লিভ-ইন শুরু করেন। বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের।
কিন্তু অভিযোগ, কিছু দিন যেতেই শিবম ওই তরুণীকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। আর তার পরেই শুরু হয় অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেই নৃশংসতা চরমে ওঠে। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, বচসা চলাকালীন স্টিলের বোতল ও মাটির পাত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এমনকী দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর গোপনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন শিবম।
এখানেই শেষ নয়, ছুরি দিয়ে ওই ছাত্রীর পা চিরে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। শিবম হুমকি দিয়েছিলেন যে, মারের চোটে তরুণী আর কোনও দিন হাঁটতে পারবেন না বা মা হতে পারবেন না। এমনকী মুখ বন্ধ রাখতে তাঁর নগ্ন ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেলও করা হত বলে দাবি নির্যাতিতার।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শিবমের নজর এড়িয়ে তাঁর ফোন থেকেই নিজের মাকে ফোন করেন ওই তরুণী। শিবম বাংলা বোঝেন না, সেই সুযোগ নিয়ে নিজের মাতৃভাষাতেই মা-কে সমস্ত কথা জানান তিনি। ফোনে তরুণী বলেন, "আমাকে যদি জীবিত দেখতে চাও, তবে এসে খুঁজে বের করো।" মেয়ের কথা শুনেই পুলিশে খবর দেন তাঁর মা, যিনি নিজেও এক জন পুলিশকর্মী। এর পরই গুরুগ্রাম পুলিশ ওই পিজি থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং শিবমকে পাকড়াও করে।
তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দিল্লি পুলিশের উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিনিধি তথা আইনজীবী রীনা রাই। তাঁর দাবি, পুলিশ লঘু ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমানে পুলিশ শিবমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটকে রাখা, মারধর এবং প্রতারণা করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ধারায় মামলা করেছে। রীনা রায়ের স্পষ্ট কথা, "পুলিশ সঠিক ধারা প্রয়োগ করেনি। আমরা নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ করব।"
