আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ। দাবি এ রাজ্যের সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর। মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। ডিএ-এর দাবিতে মামলা লড়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কর্মচারী সংগঠনগুলোকে ধুনো দিচ্ছেন সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য-সহ অনেকে। কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি ডিএ সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য অধিকার। কিন্তু মমতা সরকারের পাল্টা যুক্তি, ডিএ অনুদান। যা নির্ধারিত হয় সরকারি কোষাগারের ক্ষমতার ভিত্তিতে। এই তরজার মাঝেই সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন কেরলের এলডিএফ সরকারও কেরল হাইকোর্টে জানিয়েছে যে, ডিএ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের কোনও আইনি অধিকারের মধ্যে পড়ে না। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া নিয়ে কেরল সরকারে এই অবস্থান বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ডিএ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যবাহী।
কেরলের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষক কর্মীদের (ফেডারেশন অফ ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ অর্গানাইজেশন) দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার কেরল হাইকোর্টে ডিএ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, বর্তমানে রাজ্য তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া ডিএ মেটানো সরকারের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
কেরল সরকার জানিয়েছে, মহার্ঘ ভাতার বকেয়া বিতরণের জন্য কোনও সময়সীমা উল্লেখ করা সম্ভব নয়, কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুযায়ী রাজ্যের তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা কমেছে। রাজ্য সরকার এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা একটি আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে বলেও জানানো হয়েছে। আবেদনের ফলাফলের ভিত্তিতে এবং তহবিলের প্রাপ্যতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে হলফনামায় জানিয়েছে কেরল সরকার।
রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে যে, দেশের শীর্ষ আদালত মহার্ঘ ভাতা দেওয়াকে বাধ্যতামূলক করেনি। আদালত কেবল এইটুকুই বলেছে যে, মহার্ঘ ভাতা বিতরণে যেন কোনও অযাচিত বিলম্ব না হয়।
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে কেরলের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার ছয়'টি কিস্তি বকেয়া রয়েছে।
