আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার রাহুল গান্ধীর পাসপোর্ট বাতিলের দাবি। খারিজের দাবি লোকসভার সাংসদ পদও। বিজেপি সাংসদ সিপি জোশী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি লিখে এই আবেদন করেছেন। 

 


সম্প্রতি রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। একের পর এক বিজেপি নেতার আক্রমণের মুখে পড়েন রায়বেরিলীর সাংসদ। এবার উঠল সরাসরি পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়ার কথা। 

 


কংগ্রেস সাংসদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়েছিলেন চারদিনের জন্য। সেখানে ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী ভারতীয় ও ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে শিখদের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা প্রসঙ্গে জানান, যুদ্ধ শুরু হয় শিখদের পাগড়ি পরে ঢুকতে দেওয়া হবে কি না এই বিষয় নিয়ে। কিন্তু গুরুদ্বারা শুধু শিখদের নয় এটা সব ধর্মের লোকেদের জন্য। শিখদের দেখলেই বোঝা যায় ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন। আর এটা হয়েছে বিজেপির শাসনকালে। এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। 

 

 

বিজেপির জাতীয় মুখপত্র আরপি সিং কটাক্ষ করে জানিয়েছিলেন, ১৯৮৪ সালে, দিল্লিতে প্রায় তিন হাজার শিখকে গণহত্যা করা হয়েছিল, তাদের পাগড়ি খুলে ফেলা হয়েছিল, চুল কাটা হয়েছিল এবং দাড়ি কামানো হয়েছিল। এরপরই তিনি যোগ করেন, কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এই ঘটনা ঘটেছিল, সে কথা কিন্তু রাহুল গান্ধী উল্লেখ করেননি। এই ঘটনার জন্য তিনি কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে চলেছেন বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। 


 
 
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এক বিবৃতিতে বলেন, “কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ভুল বোঝানোর রাজনীতিতে জড়িত ছিল এবং শিখ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ছিল, তারা এখন আমাদের জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করছে।" কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে শিখরা এখনকার সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং সম্মানিত বোধ করছে বলে মন্তব্য করেন। 
এরপর বিজেপি সাংসদ সি পি জোশী। তিনি চিঠি লিখে ওম বিড়লাকে জানান, দেশের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছেন সাংসদ। বিরোধী দলনেতার পদ থেকে দ্রুত ইস্তফা দেওয়া উচিত তাঁর। এর সঙ্গেই তাঁর দাবি, পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়া উচিত সাংসদের।

 

 

রাহুল গান্ধী পাল্টা টুইট করে বলেছেন, বিজেপি মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। তারা আমাকে চুপ করতে মরিয়া, কিন্তু আমি সবসময় মূল্যবোধের পক্ষেই কথা বলব।