দুধে ভেজানো এক বাটি ওটস, স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের দিন শুরু হয় এই খাবারে৷ ফ্যাশন ম্যাগাজিন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্রই ওটসের জয়জয়কার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন— ওটস কি সত্যিই সবার জন্য সমান উপকারী?
2
10
ওটস সাধারণভাবে একটি পুষ্টিগুণসম্পন্ন গোটা শস্য (whole grain), যাতে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, নানা ভিটামিন ও খনিজ। ওটস-এ থাকা ‘বিটা-গ্লুকান’ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
3
10
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ওটস খেলে মাত্র আট সপ্তাহের মধ্যেই অনেকের রক্তে মোট কোলেস্টেরল এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। পেট দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকায় অনাবশ্যক খাওয়ার প্রবণতা কমে যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
4
10
কিন্তু বাজারে যে ‘ইনস্ট্যান্ট ওটস’ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, পুষ্টিবিদদের মতে এটিই ক্ষতির কারণ৷ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ইনস্ট্যান্ট ওটস খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা রীতিমতো লাফিয়ে বেড়ে যায়৷
5
10
মিহি গুঁড়ো করা ওটসের কণা যত ছোট হয়, তত দ্রুত সেটি হজম হয়, তত দ্রুতই শর্করা রক্তে মেশে। তুলনায় ‘স্টিল-কাট ওটস’ বা ‘রোলড ওটস’ হজম করতে বেশি সময় লাগে৷
6
10
বাজারের অধিকাংশ ফ্লেভার্ড ওটস প্যাকেট— চকোলেট, স্ট্রবেরি, ম্যাঙ্গো, হানি অ্যান্ড নাট— এসব প্যাকেটে অতিরিক্ত চিনি থাকে৷
7
10
যাঁরা হঠাৎ করে অনেকটা ওটস খেতে শুরু করেন, তাঁদের পেট ফাঁপা, গ্যাস, এমনকি ডায়রিয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শুরুটা ছোট পরিমাণ থেকেই করা উচিত।
8
10
ওট মিল্ক অনেকে দুধের ‘স্বাস্থ্যকর বিকল্প' ভাবেন৷ এখানেও ওটসের তন্তু ভেঙে গিয়ে দ্রুত-শোষণযোগ্য চিনিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে এক গ্লাস ওট মিল্কও রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
9
10
মুড়ি, চিড়ে, ছাতু, ডালিয়া এগুলি দাম কম, পুষ্টিগুণেও ওটসের সমান৷ ছাতুর সরবৎ, চিড়ের পোলাও কিংবা ডালিয়ার খিচুড়ি খাওয়া ভাল৷
10
10
যাঁরা ওটস খেতে চান, তাঁরা ফ্লেভার্ড নয়, প্লেইন রোলড ওটস বা স্টিল-কাট ওটস বেছে নিন। ওটস এর সঙ্গে বাদাম, বীজ, তাজা ফল কিংবা দই মিশিয়ে নিয়ে খেলে উপকার৷ আগের রাতে দুধ বা দইয়ে ভিজিয়ে রাখা ‘ওভারনাইট ওটস’ হজমের পক্ষে সবচেয়ে ভাল।