আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৫৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইতি টানতে রাজস্থান হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন বৃদ্ধ। কিন্তু, মামলা শুনেই বিচারপতি সুদেশ বনসাল এবং বিচারপতি অনিল কুমার উপমানের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। বেঞ্চ জানিয়েছে যে, বৈবাহিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো তর্ক এবং মতবিরোধের মতো ছোটখাটো উত্থান-পতন অনিবার্য। বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করলে কেবল স্ত্রীরই ক্ষতি হবে না, পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পারিবারিক সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বৃদ্ধ বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে আগে ভরতপুরের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু, রায় তাঁর পক্ষে যায়নি। রাজস্থান হাইকোর্টেও পারিবারিক আদালতের রায়কেই বহাল রাখল।

এই দম্পতি ১৯৬৭ সালের ২৯ জুন বিয়ে করেন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তারা কোনও অভিযোগ ছাড়াই ৪৬ বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন। ২০১৪-র ২৬ মে, বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে স্বামী দাবি করেন যে- তাঁর স্ত্রী ২০১৪ সালে নির্যাতনের একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন। বৃদ্ধের দাবি তাতেই চরম অপমানিত হয়েছিলেন তিনি।  

বৃদ্ধ দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী একটি স্থাবর সম্পত্তি তাঁদের বড় ছেলের নামে হস্তান্তর করতে চান। অন্যদিকে তিনি তা তাঁদের দুই ছেলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিতে আগ্রহী ছিলেন। এরপরই বৃদ্ধ, স্ত্রীর  বিরুদ্ধে তাঁকে অবহেলা করার এবং অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তোলেন।

স্ত্রী জানিয়েছেন যে, তাঁর স্বামী পারিবারিক সম্পত্তি নষ্ট করছেন এবং তা অন্যান্যদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে বৃদ্ধার আরও অভিযোগ যে, ছোট ভাইয়ের প্রভাবে বৃদ্ধ বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি অন্য একজন মহিলাকে তাঁর ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ফলে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। এরপর স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি এফআইআর দায়ের করেন। মহিলা আরও দাবি করেছেন যে, ওই সম্পত্তি তিনি নিজেই কিনেছিলেন।

এরপর মামলার শুনানিতে আদালত বলেছে যে, বিবাহিত দম্পতি হিসেবে বহু দশক ধরে থাকার পর, তাঁদের মানসিক সহনশীলতা এবং বোধগম্যতা অবশ্যই বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্পত্তির বিরোধ পারিবারিক সমস্যা, তবে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য এই কারণ যথেষ্ট নয়।