পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রধান ইমরান খানকে গোপনে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে তাঁর দল। পিটিআই দাবি করেছে, এই পদক্ষেপ তাঁর মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এতে তাঁর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
2
10
দলের অভিযোগ, ৭৩ বছর বয়সী এই নেতাকে স্থানান্তরের বিষয়ে তাঁর পরিবারকেও জানানো হয়নি। পিটিআই জোর দিয়ে বলেছে, ইমরান খানের যে কোনও চিকিৎসা পরীক্ষা বা ওষুধ প্রয়োগ অবশ্যই তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং অন্তত একজন পরিবারের সদস্যের উপস্থিতিতে হতে হবে।
3
10
ইমরান খানের পরিবার ও আইনজীবীরা বহুবার অভিযোগ করেছেন যে, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টিও রয়েছে।
4
10
পিটিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমাদের নেতা ইমরান খানকে পরিবারকে আস্থায় না নিয়ে গোপনে হাসপাতালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা সংক্রান্ত খবর ও জল্পনা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এই ধরনের পদক্ষেপ মৌলিক মানবাধিকার ও প্রচলিত আইনি বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।”
5
10
দলটি আরও দাবি করেছে, পাকিস্তানের জেল নিয়ম অনুযায়ী কোনও বন্দির চিকিৎসা পরীক্ষা, চিকিৎসা বা স্থানান্তরের আগে পরিবার ও চিকিৎসকদের অবহিত করা বাধ্যতামূলক।
6
10
পিটিআই বিবৃতিতে আরও জানায়, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে যে কোনও ধরনের গোপনীয়তা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। অতীতের মতো আবারও তথ্য গোপন করা তাঁর স্বাস্থ্য ও জীবনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার শামিল।”
7
10
শুক্রবার পাকিস্তানের বিরোধী জোট সংসদ ভবনের কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবাদে। একই সময়ে তেহরিক তাহাফুজ-ই-আইন পাকিস্তান (টিটিএপি), যার মধ্যে পিটিআইও রয়েছে, সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের ঘোষণা, ইমরান খানকে আল-শিফা হাসপাতালে ভর্তি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
8
10
এদিকে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত ইমরান খানের চোখের সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়।
9
10
২০২৩ সালের আগস্টে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর লাহোরের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে আটক রয়েছেন।
10
10
সার্বিক পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। পিটিআইয়ের অভিযোগ ও সরকারের অবস্থান নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।