আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতিকে ‘সিলি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, ভারতের মতো একটা বড় ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের জন্য এই ধরনের আচরণ মোটেই শোভনীয় নয়।
উল্লেখ্য, গত বছর এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে পুরুষ ও মহিলা, সমস্ত ধরনের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ম্যাচেই পাপৃকিস্তানের বিরুদ্ধে এই নো হ্যান্ডশেক নীতি মেনে চলেছে ভারত।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। তার জবাবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে মঞ্জরেকর স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারত যদি ক্রিকেটের স্পিরিটকে সম্মান জানাতে না পারে, তাহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলাই উচিত নয়।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে মঞ্জরেকর লেখেন, ‘এই ‘হাত না মেলানো’ ব্যাপারটা খুবই সিলি। ভারতের মতো দেশের পক্ষে এটা মানায় না। হয় ক্রিকেটের স্পিরিট মেনে ভারত খেলুক, না হলে একেবারে খেলারই দরকার নেই।’
তবে এদিকে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এখনো স্পষ্ট করেননি, তিনি পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে টসের সময় বা ম্যাচের শেষে হাত মেলাবেন কি না।
রবিবার কলম্বোতে ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে হ্যান্ডশেক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। আমরা এখানে ক্রিকেট খেলতে এসেছি। আপনারা ভাল খাবার খান, ভাল করে একটা ঘুম দিন।’
অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আগা জানিয়েছেন, ক্রিকেটের স্পিরিট মেনেই ম্যাচ খেলা উচিত। তাঁর দল হাত মেলাতে প্রস্তুত। ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট সবসময় যেভাবে খেলা হয়েছে, সেভাবেই খেলা উচিত। শেষ সিদ্ধান্ত ভারতের।’
উল্লেখ্য, এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তান অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানোয় পাকিস্তান শিবির ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তী ম্যাচ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। যদিও পরে তারা গোটা টুর্নামেন্টই খেলে।
ফাইনালে ভারতের কাছেই হারতে হয় তাঁদের। পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও নো-হ্যান্ডশেক নীতি বহাল ছিল। তবে রবিবারের ম্যাচে ভারত অধিনায়ক কী অবস্থান নেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটবিশ্ব।
গতবছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে চাননি সূর্যকুমাররা। টসের পর দুই অধিনায়কের মধ্যে হ্যান্ডশেক হয়নি। এমনকী ম্যাচ শেষেও হাত না মিলিয়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যায় দুই দেশের ক্রিকেটাররা।
টুর্নামেন্টে তিনবার মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। প্রতিবারই তার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এই ধারা কি আজ ভাঙবে? দীর্ঘদিন পর কি হাত মেলাবে ভারত-পাক ক্রিকেটাররা?
সুর্যকুমার যাদব এবং সলমন আঘা এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। অর্থাৎ, এটা জানতে টস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ নাটক চলে।
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে ভারত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান।
তারপর প্রায় দশদিন ধরে চলে জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে আগের রবিবার লাহোরে আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বৈঠকের পর পরিস্থিতি বদলায়। ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সবুজ সংকেত দেয় পাকিস্তান সরকার।
