আজকাল ওয়েবডেস্ক: দশক পুরনো 'হার্ট-হেলদি' বা হৃদযন্ত্রের পক্ষে ভালো খাদ্যাভ্যাসের প্রচলিত ধারণাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন দিল্লির এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়ার যে দস্তুর বর্তমানে জনপ্রিয় হয়েছে, তা ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসক অলোক চোপড়া সতর্ক করে জানিয়েছেন, কুসুম ছাড়া শুধু ডিমের সাদা অংশ খেলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (ইনফ্লামেশন) থেকে শুরু করে পুষ্টির অভাব- নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বর্তমানে জনপ্রিয় ‘এগ হোয়াইট অমলেট’ সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন ডঃ চোপড়া। তাঁর মতে, কুসুম বাদ দিয়ে ডিম খাওয়া আসলে মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় গঠন নিয়ে ভুল ধারণারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কুসুম কেবল স্বাদ বাড়ায় না, এটি শরীরের ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি উপাদান। কুসুম ছাড়া শুধু সাদা অংশ খেলে অনেকের শরীরেই তা উল্টে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডঃ চোপড়ার কথায়, "বছরের পর বছর ধরে ডিমের কুসুমকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান এবং চিরাচরিত জ্ঞান- দুই-ই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আসল শক্তি লুকিয়ে আছে ভারসাম্যের মধ্যে। প্রয়োজনীয় ভিটামিন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রোটিন- সবটাই থাকে কুসুমের মধ্যে। এবার বোধহয় খাবারকে ভয় পাওয়া বন্ধ করে তাকে বোঝার সময় এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "ডিমের কুসুম শরীরের জন্য আদতে ভালো। কুসুম খেলে ওজন বাড়ে বলে যে প্রচার চলেছিল, সেখানে ওই ফ্যাট শরীরের জন্য কতটা কার্যকর, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কুসুম ছাড়া ডিমের সাদা অংশ আসলে একটি ‘ইনফ্ল্যামেটরি প্রোটিন’; কিন্তু কুসুমের সঙ্গে খেলে এটিই পুষ্টির ভাণ্ডারে পরিণত হয়।"
কুসুম বর্জিত খাদ্যাভ্যাসের ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই চিকিৎসক জানান, কোলেস্টেরলের ভয়েই মূলত ডিমের কুসুমকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খাবারের কোলেস্টেরলের সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার বিশেষ সম্পর্ক নেই। উল্টে শুধু ডিমের সাদা অংশ খেলে অন্ত্রের সমস্যা , সালমোনেলা সংক্রমণ, বায়োটিনের অভাব এবং আর্থ্রাইটিসের মতো ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডঃ চোপড়া মনে করিয়ে দিয়েছেন, শরীরের প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরলের ৮৫ শতাংশই তৈরি হয় শরীরের ভেতরে, খাবার থেকে তা আসে না। তাই শুধু ডিমের সাদা অংশের বিস্বাদ অমলেট খেয়ে কোলেস্টেরল কমানোর চেষ্টার কোনও মানে হয় না। কুসুম বাদ দেওয়া মানে ভিটামিন এ, ই, ওমেগা-৩ এবং বিটা-ক্যারোটিনের মতো অতি প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি থেকে শরীরকে বঞ্চিত করা।
তবে শুধু ডিম খাওয়াই শেষ কথা নয়, ডিমের গুণমানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডঃ চোপড়ার পরামর্শ, খাঁচায় বন্দি মুরগির বদলে খোলামেলা জায়গায় সূর্যের আলোয় বড় হওয়া মুরগির অর্গানিক বা ‘ফ্রি-রেঞ্জ’ ডিম খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে মঙ্গলজনক।
