আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মহম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষে প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন।
২০২৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছেন তারেক।
বাংলাদেশের তরফে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, তাঁর ঢাকায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ১৭ ফেব্রুয়ারিই মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
রবিবার এক বিবৃতিতে ভারত সরকার জানিয়েছে, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর উপস্থিতি নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ককে ভারত কতটা গুরুত্ব দেয়, তারই প্রতিফলন।
একইসঙ্গে এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরে। কেন্দ্রের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে আবদ্ধ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের প্রতি স্বাগত জানাচ্ছে।
জনগণের বিপুল সমর্থনে নির্বাচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, বাংলাদেশ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তারেক রহমানকে শপথ পাঠ করাবেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও, মঙ্গলেই শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও।
তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। একইসঙ্গে পাকিস্তান-চীন-সহ মোট১৩টি দেশকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বাংলাদেশ নির্বাচনের ফলাফল একপ্রকার নিশ্চিত হতেই সমাজ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রথমে ইংরেজি ও পরে বাংলায় পোস্ট করে তারেক রহমানকে ‘উষ্ণ অভিনন্দন’ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক জয়লাভের জন্য আমি জনাব তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই জয় আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।’
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ফের পোস্ট করেন। তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও।
এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আমি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জনাব তারেক রহমান এবং বিএনপিকে অভিনন্দন জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য অনেক মিলের গভীর বন্ধন রয়েছে। আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য সকল ভারতীয় সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে।’
