আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটে জিতেই শুরু উদযাপন। মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর-সহ দলের কর্মী, সমর্কথকরা। সেখানেই ঘটল বিপত্তি। মন্দিরের বাইরে দাউদাউ আগুনে দগ্ধ হলেন ১৬ জন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পুনেতে। পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের জেরে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর-সহ ১৬ জন আহত হয়েছেন। রবিবার ভোটে জয়ের পর এক মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন সকলে। সেই মন্দিরে ভান্ডারা উৎসর্গ করেছিলেন। আচমকাই সেই ভান্ডারায় দাউদাউ আগুন জ্বলতে শুরু করে। সেই আগুনেই এনসিপি দলের কাউন্সিলর-সহ ১৬ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরেই উদযাপনে মেতে ওঠেন এনসিপি দলের ওই কাউন্সিলর। জেজুরি এলাকায় মহারাষ্ট্রের লোকদেবতা খন্ডোবার মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন দলের আরও বহু কর্মী, সমথর্ক। মন্দিরে পুজো দেওয়ার আগে ভান্ডারা উৎসর্গ করেন।
খন্ডোবার মূর্তির সামনেই উপরে রাখা ছিল সেই ভান্ডারা। আচমকাই একটি ভেঙে পড়ে। খন্ডোবার মূর্তির সামনে জ্বালানো প্রদীপের উপরেই পড়ে যায় ভান্ডারা। তা থেকেই দাউদাউ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পুনের পুলিশ আধিকারিক সন্দীপ গিল জানিয়েছেন, এনসিপি দলের জয়ী কাউন্সিলর স্বরূপ খোমনে, মনিকা গাড়গে-সহ ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২৮৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি, শিবসেনা ও এনসিপি দলের জোট ২০৭টি সভাপতি আসনে জয়লাভ করেছে। বিরোধী জোট মহাবিকাশ অঘাঢ়ী-র প্রার্থীরা ৪৪টি সভাপতি আসনে জয়লাভ করেছে। পুরসভার সভাপতির আসনগুলিতে ১১৭টি বিজেপি, ৫৩টিতে শিবসেনা ও ৩৭টিতে এনসিপি জয়ী হয়েছে। কংগ্রেস পেয়েছে ২৮টি আসন। এনসিপি (শরদ পওয়ার) ও শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) পেয়েছে যথাক্রমে ৭টি ও ৯টি আসন।
গত অক্টোবরে মহারাষ্ট্রে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। চলন্ত বাসে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশের পর এবার ঘটনাস্থল মহারাষ্ট্র। ফের হাইওয়েতে যাত্রীবাহী বেসরকারি বিলাসবহুল বাসে দাউদাউ আগুন। যদিও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বাস চালকের বুদ্ধিতেই প্রাণে বাঁচেন বাসের সকল যাত্রী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সমরুদ্ধি হাইওয়েতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বেসরকারি বিলাসবহুল একটি বাস। দাউদাউ করে আগুন জ্বলে যায় চলন্ত বাসে। সেটি মুম্বই থেকে ঝালনার দিকে যাচ্ছিল। বাসটিতে ১২ জন যাত্রী ছিলেন, চালক ও সহকারী ছাড়া। অগ্নিকাণ্ডের আঁচ পেয়েই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রীদের নামিয়ে দেন বাস চালক। তাঁর বুদ্ধিতেই প্রাণে বেঁচে যান যাত্রীরা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নাগপুর লেনের কাছে বুধবার ভোররাত তিনটে নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। বাসের চালক হুসেন সায়েদ প্রথমে অগ্নিকাণ্ডের আঁচ পেয়েছিলেন। নিমেষের মধ্যে বাসটি একপাশে থামিয়ে যাত্রীদের তড়িঘড়ি নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই বেসরকারি বিলাসবহুল বাসটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে।
জানা গেছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই পুড়ে খাক হয়ে যায় বাসটি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই পুলিশ, দমকল বাহিনী, টোল প্লাজার আধিকারিকরা, হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয়। অ্যাম্বুল্যান্স ও উদ্শধারকারী দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাসের আগুনে নিয়ন্ত্রণে আসে। কীভাবে বাসটিতে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। বাসে অগ্নিকাণ্ডের জেরে নাগপুর লেনে বেশ খানিকক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয়। যদিও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
