আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলায় পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অত্যন্ত কুরুচিকর এক অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত ওই পুলিশ আধিকারিকের নাম রাজেশ যাদব, যিনি আকোলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, একটি মামলার তদন্ত চলাকালীন এক মহিলা অভিযুক্তর কাছে তাঁর মেয়েকে পাঠানোর দাবি জানান ওই পুলিশকর্মী। পরিবর্তে টাকার প্রলোভনও দেখান তিনি। এই ঘটনা সামনে আসতেই অভিযুক্ত রাজেশ যাদবকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি পলাতক, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে ৮০ লক্ষ টাকার একটি জালিয়াতি মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় এক মহিলাকে আটক করে পুলিশ স্টেশনে আনা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানেই কর্তব্যরত অবস্থায় রাজেশ যাদব ওই মহিলার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে শুরু করেন। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে তিনি মহিলাকে বলেন, "আপনি দেখতে খুব সুন্দরী, নিশ্চয়ই আপনার মেয়েও খুব রূপবতী হবে। আপনার মেয়েকে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিন, বিনিময়ে আমি আপনাকে ১০ হাজার টাকা দেব।" পুলিশের পোশাকে থেকে এই ধরণের কুপ্রস্তাব শুনে হতবাক হয়ে যান ওই মহিলা। তিনি আর দেরি না করে থানা চত্বরেই উপস্থিত এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের কাছে গোটা বিষয়টি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বিষয়টির গুরুত্ব বিচার করে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। আকোলার পুলিশ সুপার অর্চিত চণ্ডক অভিযুক্ত এএসআইকে তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনা নিয়ে বর্ষীয়ান পুলিশ পরিদর্শক অনিল জুমলে জানিয়েছেন যে, অপরাধের গভীরতা বুঝে দ্রুত এফআইআর রুজু করা হয়েছে এবং তিনটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য। 

তবে রাজেশ যাদবের বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য ডঃ আশা মিরগে জানিয়েছেন যে, প্রায় এক দশক আগেও এই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিবাদ এবং মহিলাঘটিত অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি একবার এক মহিলা সহকর্মীর সাথেও তিনি দুর্ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ডঃ মিরগে আক্ষেপের সাথে বলেন, "যাঁদের কাজ সাধারণ মানুষের সুরক্ষা দেওয়া, তাঁরাই যখন এমন শিকারির মতো আচরণ করেন, তা সত্যিই উদ্বেগজনক।" প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, খোদ পুলিশ বাহিনীর মধ্যে থেকে আসা এই কলঙ্ক দূর করতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।