আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতির মধ্যে পুনের কুদালে বস্তিতে একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ৩১ বছর বয়সী এক যুবককে তাঁর তুতো ভাই এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে থেঁতলে খুন করেছে। সোমবার রাতে একটি নির্মাণ প্রকল্পের শ্রমিক কলোনিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম বালাজি খান্দাডে (২৯) এবং অভিযুক্তের নাম প্রদীপ গুন্ডারে। বালাজি নান্দেদ জেলার বাসিন্দা এবং প্রদীপ লাতুরের জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ প্রদীপের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এর ১০৩ ধারা (হত্যা) এর অধীনে অভিযোগ দায়ের করেছে।

পুনে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিরা দূর সম্পর্কের আত্মীয় এবং একটি নির্মাণস্থলে কাজ করছিলেন। খান্দাদে শ্রমিকদের নির্মাণ কলোনিতে থাকতেন। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ রান্না করা নিয়ে বালাজি এবং প্রদীপের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাগের বসে প্রদীপ সিলিন্ডার তুলে নিয়ে বালাজিকে একনাগাড়ে আঘাত করেন।”

ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, আচমকা হামলায় বালাজি গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত ভারতের এলপিজি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। যদিও ঘরোয়া গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিবারগুলি এখনও সিলিন্ডার পাচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের পরিস্থিতি খারাপ। বেশ কয়েকটি রাজ্যের হোটেল এবং রেস্তরাঁ সমিতিগুলি ঘাটতির কথা জানিয়েছে। অনেক খাবারের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গৃহস্থালীর গ্রাহকদের উপরও চাপ তৈরি হয়েছে। নানা প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, এলপিজি গুদাম এবং বিতরণ সংস্থাগুলির আউটলেটের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে এবং কালোবাজারে সিলিন্ডারের দাম ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হয়ে বুকিং এবং মজুদ করার প্রবণতা মূলত ভুল তথ্যের কারণে হচ্ছে। সরকার জনগণকে শান্ত থাকার এবং এলপিজি ঘাটতি সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারি নির্দেশের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।