আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (EEZ) মধ্যে ট্র্যাকিং ব্ল্যাকআউট এবং গোপনে জ্বালানি পাচারের বিষয়টি নজরে আসতেই, ভারত নিষিদ্ধ ইরানি তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করেছে। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর (আইসিজি) নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে মালির পতাকাবাহী এমটি অ্যাসফল্ট স্টারকে আটক করা হয়। এটিতে ৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে আটক করা হয়।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাঙ্কারটি ২৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের ইকোনমিক জোনের ভিতরে কাজ করার সময় প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে তার স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস), ভিএইচএফ রেডিও এবং অন্যান্য ট্র্যাকিং সরঞ্জাম বন্ধ করে দেয়। এই ভাবে ট্যাঙ্কারটি পাক জলসীমায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ছিল।
প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি মনে করে যে এই ধরনের ইচ্ছাকৃত ‘অন্ধকার’-এ থাকার কৌশল একটি জাহাজের গতিবিধি গোপন করার জন্য ব্যবহৃত একটি সাধারণ পদ্ধতি। নজরদারি দলগুলি পরে আরব সাগরে ট্যাঙ্কারটিকে দেখতে পায়। আটক করার পরে ট্যাঙ্কারটির কর্মীরা এটির নাম এবং গন্তব্য সম্পর্কে অসঙ্গতিপূর্ণ বিবরণ প্রদান করে। আরও জানা গিয়েছে, জাহাজটি মিথ্যা ভ্রমণ তথ্য প্রেরণ করছিল এবং মালিতে জারি করা একটি অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন এবং কোনও বৈধ সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণ বিমা ছিল না জাহাজটির।
তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন যে এমটি অ্যাসফল্ট স্টারের সঙ্গে কাজ করছিল আরও দু’টি জাহাজ- এমটি আল জাফজিয়া এবং এমটি স্টেলার রুবি। জাহাজ তিনটি ভারতীয় জলসীমার মধ্যে বেআইনি জাহাজ থেকে জাহাজে জ্বালানি পাচার করছিল। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাল কাগজপত্র এবং পরিচয় গোপন করার জন্য এআইএস কারসাজি ব্যবহার করে দশ টন ভারী জ্বালানি তেল এবং হাজার হাজার টন বিটুমিন পরিবহন করা হয়েছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে জাল বিমা এবং রেজিস্ট্রেশন নথি ব্যবহার করে জাহাজগুলি এর আগেও ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। জাহাজের নাবিকের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল প্রমাণে বিদেশীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।
মুম্বইয়ে দায়ের করা একটি এফআইআরে ক্রু সদস্য এবং কোম্পানির প্রতিনিধি-সহ ন’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চোরাচালান এবং জালিয়াতি থেকে শুরু করে সামুদ্রিক ও পেট্রোলিয়াম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শ্যাম বাহাদুর চৌহান, নবজ্যোত চলোত্র, গোপাল দাস, রবি কুমার, জ্ঞান চন্দ্র গুপ্ত, মুনওয়ার খালফে, শিবকুমার শর্মা, নাসারউদ্দিন মণ্ডল এবং যোগেন্দ্র সিং ব্রার। তদন্ত অব্যাহত থাকায় জাহাজগুলিকে মুম্বইয়ের কাছে নোঙর করা হয়েছে।
