আজকাল ওয়েবডেস্ক: টিফিন খাওয়ার ফাঁকে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল সে। আচমকাই ঘটল বিপত্তি। স্কুলের ক্লাসরুমের মধ্যে আচমকাই ভেঙে পড়ল ব্ল্যাকবোর্ড। সেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানে। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে জালোরের এক স্কুলে। আচমকাই ক্লাসরুমে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ব্ল্যাকবোর্ড। তাতে চাপা পড়েই ছ'বছরের খুদে পড়ুয়ার মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। ক্লাসরুমেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মরুধার শিক্ষা সংস্থায়। গতকাল লাঞ্চ ব্রেকের সময় সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল ওই ছাত্রী। ঠিক সেই সময়েই ব্ল্যাকবোর্ডটি ভেঙে পড়ে। স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, ব্ল্যাকবোর্ডটি সিমেন্ট ও ফাইবার দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। ব্ল্যাকবোর্ডের সঙ্গে ক্লাসরুমের দেওয়ালের খানিকটা অংশ ধসে পড়ে। 

সেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে যায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। শিক্ষকরা ও স্কুলের কর্মীরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পৌঁছন। 

এই দুর্ঘটনার পরেই স্কুলের নিম্নমানের কাঠামো এবং পড়ুয়াদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে অভিভাবকরা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছ'বছর আগে স্কুলের ভবনটি তৈরি হয়েছিল। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫০ জন পড়ুয়া রয়েছে এই স্কুলে। স্কুলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ব্ল্যাকবোর্ডটি তৈরি করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। 

গতবছর জুলাইয়ে এই রাজ্যে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। স্কুলে প্রার্থনা শুরুর আগেই বিপদের আশঙ্কা করেছিল কয়েক পড়ুয়া। ক্লাসরুমে বসেই দেখতে পেয়েছিল, ছাদ থেকে বালি, পাথর খসে পড়ছে। যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শিক্ষিকাকেও জানিয়েছিল তারা‌। একবার বলেওছিল, ছাদটি বোধহয় ধসে পড়তে পারে। কিন্তু পড়ুয়াদের কথার কোনও গুরুত্ব দেননি শিক্ষিকা। সেই গাফিলতিতেই ঘটল বিরাট দুর্ঘটনা। সরকারি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ে প্রাণ হারায় সাতজন পড়ুয়ার। 

জানা গেছে, ছাদটি ধসে পড়ার আগেই শিক্ষিকাকে সতর্ক করেছিল কয়েকজন পড়ুয়া। উল্টে তাদের ধমক দিয়ে প্রার্থনায় মন দিতে বলেন শিক্ষিকা। এরপরই ব্রেকফাস্ট খেতে চলে যান। মন দিতে পোহা খাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময়েই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে স্কুলের ছাদ। চাপা পড়ে কমপক্ষে ৬০ জন পড়ুয়া। তাদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিল আরও ২৭ জন। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল রাজস্থানের ঝালাওয়াড় জেলায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ এক সরকারি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ে সাত পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল।‌ আহত হয়েছিল আরও ২৭ জন। ঘটনাটি ঘটেছিল মনোহর থানা এলাকার পিপলোড়ি গভর্নমেন্ট স্কুলে। ওই স্কুলের ছাদের একাংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সেদিন প্রার্থনার পর ক্লাসরুমে পড়ুয়ারা উপস্থিত ছিল। ইতিমধ্যেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ওই স্কুলের পাঁচ শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের একাংশ ওই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে। কমপক্ষে ৬০ জনের উপর ছাদটি ভেঙে পড়ে। একে একে সকলকেই উদ্ধার করা গেছে। মৃতদের মধ্যে ছ'বছরের এক খুদে পড়ুয়াও রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই সরকারি স্কুলভবনটি ভগ্নপ্রায় দশা ছিল। তবে এক মাস আগে রক্ষণাবেক্ষণের কিছু কাজ হয়। কিন্তু তারপরেই শুক্রবারে এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটল। 

দুর্ঘটনার পর ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক পড়ুয়া জানায়, 'প্রার্থনা চলাকালীন দেখতে পেয়েছিলাম, ছাদ থেকে বালি-পাথর ঝরে পড়ছিল। আমরা কয়েকজন শিক্ষকদের বিষয়টা জানিয়েওছিলাম তাঁরা আমাদের উল্টে ধমক দেন। এরপর তাঁরা ব্রেকফাস্ট করতে চলে যান। পোহা খাচ্ছিলেন শিক্ষকরা।' 

পড়ুয়া আরও জানায়, 'সেদিন প্রার্থনার সময়ে শ্রেণিকক্ষের ভিতর আমরা বসেছিলাম। তখনই ছাদ থেকে বালি-পাথর পড়ছিল। শিক্ষিকরা ধমক দিয়ে নিজেদের আসনে বসতে বলেন। কিছুক্ষণ পরেই ছাদটি ধসে পড়ে। আমরা কয়েকজন পালিয়ে যেতে পারলেও, বাকিরা ধসে চাপা পড়ে যায়। যদি ওই সময়েই সবাইকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করা যেত, তা হলে হয়তো সবাই বেঁচে যেত।'