আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিল্পক্ষেত্রে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটের জেরে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া জোগান ঘাটতি মেটাতে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের বরাদ্দ একধাক্কায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়, যা মূলত চাপের মুখে পড়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার জেরে গত কয়েকদিন ধরেই দেশে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের চরম সংকট দেখা দিয়েছিল। এর আগে চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ জোগান দেওয়া হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হলো। তবে শিল্প মহলের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ নিতে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছে সরকার। ইতিমধ্যেই ছোট ও মাঝারি কলকারখানাগুলোতে উৎপাদনের কাজ ব্যাহত হতে শুরু করেছে।
সরকারি সূত্র অনুসারে, স্টিল, অটোমোবাইল, টেক্সটাইল এবং রাসায়নিকের মতো শ্রমনিবিড় শিল্পগুলিকে এই অতিরিক্ত জোগানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে সমস্ত প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে গরম করার কাজের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি-র প্রয়োজন বেশি, তারা এই বাড়তি সুবিধা পাবে। তবে এই বাড়তি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছে সরকার। অনেক বাণিজ্যিক ও শিল্প সংস্থা এখন তেল বিপণন সংস্থাগুলির কাছে নাম নথিভুক্ত করতে হবে এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে। যদিও কিছু জরুরি ক্ষেত্রকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে, তবুও এই নতুন প্রক্রিয়ার কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং কমিউনিটি কিচেনগুলোর জন্য ২০ শতাংশ অতিরিক্ত বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ছোট সিলিন্ডার বিলির ব্যবস্থাও করা হয়। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ইতিমধ্যেই ৩৭ হাজারেরও বেশি ছোট সিলিন্ডার শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় এবার বড় শিল্পের দিকে নজর দিল কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ভারত বিপাকে পড়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এলপিজি-বাহী ভারতীয় জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দিতে পারে। বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকলে বর্তমানের এই ৭০ শতাংশ বরাদ্দ সংকট সামাল দিতে কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।















