আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঠিক যেন সিনেমার টানটান উত্তেজনা। তবে কোনও রূপালি পর্দা নয়, সাতসকালে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, স্ত্রীর প্রেমিকের পিঠে ও মাথায় গুলি চালিয়ে তাঁকে খুন করে সেই খুনের কথা বুক ফুলিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করল এক যুবক। রক্তমাখা অস্ত্র হাতে নিয়ে বাইক চালাতে চালাতে তার সেই ‘গর্বিত’ স্বীকারোক্তির ভিডিও এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সুরেন্দ্র সিং (২৮)। বুধবার দুপুরে মিরাটের এক বাজারের মধ্যে দিয়ে যখন তিনি মোটরবাইকে যাচ্ছিলেন, তখনই পিছন থেকে এসে তাঁর পিঠে গুলি চালায় আততায়ী। সুরেন্দ্র মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দ্বিতীয়বার গুলি করা হয়। বাজারের মাঝখানে দাঁড়িয়েই আততায়ী চিৎকার করে বলে, “কার ক্ষমতা আছে একে বাঁচাও!” ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে শুরু করেন পথচারীরা।

খুনের কিছুক্ষণ পরেই অভিযুক্তের একটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সে বাইক চালাতে চালাতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। তার দাবি, “দেড় বছর ধরে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজ ওকে শেষ করেছি। মিরাটের পুলিশ কর্তাকে এই ভিডিও পাঠিয়ে দাও।” শুধু তাই নয়, নিজের সম্পত্তি ভাইদের নামে লিখে দিয়ে সে বাড়ি থেকে ‘কাফন’ হাতে নিয়ে বেরিয়েছিল বলেও দাবি করে ওই যুবক। সে বলে, “ওর (স্ত্রী) ওপর আমার রাগ কমেনি, ওকেও মারব।”

বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সময়ও ওই যুবকের মধ্যে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং পুলিশের সামনে আয়েশ করে বিড়ি ধরিয়ে সে বলতে থাকে, “গত দেড় বছর ধরে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কেউ শোনেনি।” তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে ফালাওদা থানা এলাকার এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে পালিয়েছিলেন সুরেন্দ্র। তাঁরা আদালতে বিয়ে করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। মহিলা আসলে অভিযুক্তের স্ত্রী৷ 

সেই পুরনো আক্রোশ থেকেই এই প্রতিশোধ বলে মনে করছে পুলিশ। এলাকাটি মিরাট ও মুজফ্ফরনগরের সীমান্তে। এর ফলে তদন্তে কিছুটা জটিলতাও দেখা দেয়। ঘটনার জেরে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিরাটের পুলিশ সুপার অভিজিৎ কুমার।