আজকাল ওয়েবডেস্ক: জ্বালানি সঙ্কটের জেরে একের পর এক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হতে শুরু করেছে। এর ফলে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার ছাড়া হচ্ছে। তবে কারা এই সিলিন্ডার পাবেন, সেই উপভোক্তা বাছাইয়ের দায়িত্ব বর্তেছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির ওপর।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রান্নার গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে রাজ্যগুলিকে বিকল্প হিসেবে আরও ৪০ হাজার কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।
অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল গুরুগ্রামের হেঁশেলে। বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কট। এর জেরে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় দিল্লির নামী স্কুল ‘দ্য শ্রী রাম স্কুল’-এর।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার থেকে পড়ুয়াদের টিফিন ও দুপুরের খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের ইতিমধ্যেই ইমেল পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সেই ইমেলের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ভাগ করে ভারত-পে’র প্রাক্তন কর্তা অশনীর গ্রোভার লিখেছেন, “সঙ্কট যে সত্যিই গভীর, তা স্পষ্ট।”
শুধু এই স্কুলটিই নয়, সিলিন্ডার না পেয়ে কার্যত অথৈ জলে পড়েছে বহু রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, হস্টেল এবং অফিসের ক্যান্টিন। অনেক জায়গাতেই উনুন জ্বলা দায় হয়ে পড়েছে।
মূল সমস্যা লুকিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধের জেরে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জোগানে বড়সড় টান পড়েছে। ফলে সময়মতো সিলিন্ডার পৌঁছোচ্ছে না ভারতের বাজারে।
স্কুলের প্রশাসনিক প্রধান কে এ গিরিজা অভিভাবকদের জানিয়েছেন, ক্যাটারারের কাছে মাত্র দু’দিনের গ্যাসের মজুত রয়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে। শনিবারের মধ্যে যদি নতুন স্টক না আসে, তবে ১৬ মার্চ, সোমবার থেকে রান্নার কাজ চালানো সম্ভব হবে না।
চিঠিতে বলা হয়েছে:
“আপাতত আপনারা আপনাদের সন্তানদের টিফিনের বিকল্প ব্যবস্থা রাখুন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমরা দ্রুত জানাব। এই কঠিন সময়ে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।”
উল্লেখ্য, অশনীর গ্রোভার এই চিঠিটি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করতেই বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রান্নার গ্যাসের এই আকাল যে জনজীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করতে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
